রাজস্থানের জয়পুর-আজমেঢ় জাতীয় সড়কে মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটে গেল এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাকে আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্কে ভেঙে পড়ে সানওয়াড়া এলাকা। পরপর বিস্ফোরণে আগুনে জ্বলে ছারখার হয়ে যায় হাইওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা সাতটি গাড়ি। রাতের নির্জনতায় বিস্ফোরণের আওয়াজ ভেসে আসে কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত, আর আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায় প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকেও।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটে যখন জাতীয় সড়কে সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাকটি ভুল জায়গায় পার্ক করে তার চালক রাস্তার ধারের একটি দোকানে খেতে যান। সেই সময় পিছন দিক থেকে আরেকটি ট্রাক এসে জোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের পর মুহূর্তের মধ্যেই ট্রাকটিতে আগুন ধরে যায়। ভিতরে থাকা এলপিজি সিলিন্ডারের কারণে আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার নেয় এবং পরপর একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে।


জয়পুর-আজমেঢ় হাইওয়েতে ভয়াবহ সিলিন্ডার ট্রাক বিস্ফোরণ, পুড়ে গেল ৭ গাড়ি

আগুনের তীব্রতায় আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাতটি গাড়িও আগুনে পুড়ে যায়। হাইওয়ের ওপর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। স্থানীয়রা জানান, রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ ভয়াবহ শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তাঁদের। অনেকেই ভেবে নিয়েছিলেন ভূমিকম্প বা বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। বন্ধ করে দেওয়া হয় জয়পুর–আজমেঢ় জাতীয় সড়ক। আগুন নেভাতে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কাজ করে। দমকল কর্মীদের সময়মতো উপস্থিতি বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করে, এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
এই ঘটনায় ট্রাকের চালকসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চালক ঘটনার পর থেকে পলাতক। উপমুখ্যমন্ত্রী প্রেম চাঁদ বৈরওয়া মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনাস্থলে যান ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাকের চালকের খোঁজ শুরু হয়েছে।”


যদিও এই ঘটনায় প্রাণহানির কোনও খবর মেলেনি, কিন্তু প্রশাসনের মতে, সামান্য সময়ের ব্যবধানেই এই দুর্ঘটনা ভয়াবহ বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাকের মধ্যে থাকা সিলিন্ডারের সংখ্যা ও বিস্ফোরণের ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, পরিস্থিতি অল্পের জন্য বড় ট্র্যাজেডি থেকে রক্ষা পেয়েছে এলাকা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অঞ্চলে এটি প্রথম ঘটনা নয়। মাত্র ১০ মাস আগে এই একই জাতীয় সড়কে একটি গ্যাস ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল ১৯ জনের। সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনও ভোলেননি স্থানীয়রা। এবারও রাতের অন্ধকারে হঠাৎ আগুনে ফের আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা।
এই ঘটনার পর ট্রাকে এলপিজি সিলিন্ডার বহনের সময় নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইওয়েতে ভুলভাবে ট্রাক পার্কিং ও চালকের অসতর্কতা এই দুর্ঘটনার বড় কারণ। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ট্রাকের মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজ্য সরকারের তরফে আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পর হাইওয়েতে যান চলাচল কিছু সময় বন্ধ থাকলেও সকালে তা স্বাভাবিক হয়। তবে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এখনও কাটেনি।








