দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর পর বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মীয় উৎসব হল জগদ্ধাত্রী পুজো (Jagaddhatri Puja 2025)। বিশেষ করে চন্দননগর ও কৃষ্ণনগরে এই উৎসব পালিত হয় ধুমধাম করে। যদিও চারদিনের এই পুজোয় মূল আরাধনা হয় নবমী তিথিতেই, যখন দেবীর পূজোপাঠ, উপবাস এবং নানান ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করা হয়।
শাস্ত্র অনুযায়ী, সংসারের শ্রীবৃদ্ধি (Prosperity and Happiness) লাভের জন্য নবমীর দিনে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম পালন করা বিশেষভাবে ফলপ্রদ বলে মনে করা হয়।


নবমীর সকালে করণীয় নিয়মসমূহ:
ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে ঘরদোর পরিষ্কার করে স্নান সেরে ফেলতে হয়। শুদ্ধ পোশাক পরা আবশ্যিক—বিশেষত লাল বা হলুদ রঙের পোশাক পরলে তা শুভ বলে ধরা হয়। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, এদিন কালো বা সাদা রঙের পোশাক এড়িয়ে চলা উচিত।
অনেক মহিলাই এদিন উপবাস পালন করেন। তবে যদি উপবাস সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত নিরামিষ আহার গ্রহণ করা শ্রেয়। নিজের সাধ্য অনুযায়ী দেবী জগদ্ধাত্রীকে ফল, ফুল, পোশাক বা মিষ্টান্ন নিবেদন করাই উত্তম। বিশেষ করে লাল বা হলুদ শাড়ি অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ ফলদায়ক।
মনোস্কামনা পূরণের বিশেষ উপায়:
শাস্ত্র মতে, নবমীর দিনে দেবীকে পুজো দেওয়ার পর আমলকি গাছ প্রদক্ষিণ করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। পাশাপাশি বাড়ির কন্যাসন্তানকে উপহার দেওয়া ও কোনও দরিদ্র মানুষকে দান করলে সংসারে সৌভাগ্য ও শান্তি বৃদ্ধি পায়।


এই সমস্ত আচার বিশ্বাসের প্রতীক, যা ভক্তের মনে শুদ্ধি ও দেবীর প্রতি শ্রদ্ধার আবহ তৈরি করে।
জগদ্ধাত্রীর আভিধানিক ও পৌরাণিক তাৎপর্য:
“জগদ্ধাত্রী” শব্দের আভিধানিক অর্থ—‘যিনি সমগ্র জগৎ ধারণ করেন’। দেবী ত্রিভুবনের ধাত্রী, অর্থাৎ তিনিই বিশ্বের রক্ষাকারিণী। তিনি সত্ত্বগুণের প্রতীক, যিনি অহংকার নাশ করে জীবনে সুষমা ও স্থিতি আনেন।
পৌরাণিক কাহিনিতে বলা হয়, মহিষাসুর বধের পর দেবতারা নিজেদের শক্তি নিয়ে অহংকারে মেতে উঠেছিলেন। সেই অহংকার ভাঙার জন্যই দেবী তাঁদের সামনে চতুর্ভুজা জগদ্ধাত্রী রূপে আবির্ভূত হন। তিনি দেবতাদের শক্তির আসল উৎস প্রমাণ করেন—তাঁর থেকেই সমস্ত শক্তির উৎপত্তি।
আরেকটি মতে, শ্রীশ্রীচণ্ডীতে বর্ণিত আছে যে, যুদ্ধের সময় মহিষাসুর হাতির রূপ নেয়। সংস্কৃতে হাতির আরেক নাম ‘করী’। সেই হস্তীরূপী অসুরকে বধ করতেই দেবী জগদ্ধাত্রী আবির্ভূতা হন। তাঁর বাহন সিংহ একটি মৃত হাতির উপর দাঁড়িয়ে থাকে। এজন্যই দেবীর আরেক নাম করীন্দ্রাসুরনিসূদিনী।
শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, নবমীর নিয়মগুলি মানলে সংসারে শান্তি, অর্থলাভ ও সমৃদ্ধি আসে। ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেবী জগদ্ধাত্রীর পূজা করলে জীবনের সংকট দূর হয়, পারিবারিক সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায় এবং জীবনে আসে মানসিক প্রশান্তি।







