ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর তদন্তে নয়া মোড়। গ্রেফতার হওয়া ‘মূলচক্রী’ যে ভারতীয় নন, বরং আফগান নাগরিক—সেটা স্বীকার করেছেন খোদ পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবু হামলার নেপথ্যে ভারতের ‘অর্থ ও পরিকল্পনা’ রয়েছে বলে দাবি ইসলামাবাদের। প্রমাণহীন এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে দুই দেশের কূটনৈতিক অন্দরে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, ইসলামাবাদের মসজিদে হামলার ঘটনায় মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মধ্যরাতের অভিযানে ধরা পড়েছে এই হামলার ‘মূলচক্রী’ও। তদন্তে জানা গিয়েছে, সে ভারতীয় নয়, আফগান নাগরিক। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে তার যোগ ছিল বলেও দাবি করেছেন নকভি।

মন্ত্রীর বক্তব্য, হামলার পর পেশোয়ার ও নৌসেরা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী চিরুনি তল্লাশি চালায়। অভিযানের সময় খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের এক সাব-ইনস্পেক্টর নিহত হন, আহত হন আরও কয়েকজন।
নকভির দাবি, পুরো হামলার পরিকল্পনা আফগানিস্তান থেকেই করা হয়েছিল। আফগানিস্তানে সক্রিয় আইএস জঙ্গিরাই এই হামলার ছক কষে। কীভাবে জঙ্গিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং সে কীভাবে সীমান্ত পেরিয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তাঁর মতে, খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালোচিস্তানে কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে এখানেই থেমে থাকেননি পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “পরিকল্পনা আফগানিস্তানে হলেও এই হামলার অর্থ এসেছে ভারত থেকে। ভারতই নিশানা ঠিক করে দিচ্ছে এবং জঙ্গিদের সামনে ঠেলে দিচ্ছে।” তাঁর দাবি, সরাসরি যুদ্ধে না পেরে ভারত এভাবেই ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ পেশ করা হয়নি।


পাকিস্তানের এই অভিযোগ আগেই খারিজ করেছে ভারত। নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রক এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একইভাবে আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসনও হামলার সঙ্গে নিজেদের কোনও যোগ থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
গত শুক্রবার দুপুরে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালীন আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে। আত্মঘাতী জঙ্গি বিস্ফোরক বেল্ট পরে মসজিদের ভিতরে ঢুকে পড়ে। নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিস্ফোরণ আটকানো যায়নি। ঘটনায় অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক মানুষ।
একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি, জঙ্গি সংগঠন আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। যদিও তাদের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি।







