বাহরিনের তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলা, ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতেও তীব্র আঘাত!

বাহরিনের বাপকো তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে। একই দিনে ইরাকের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করেও হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও জটিল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সোমবার বাহরিনের গুরুত্বপূর্ণ বাপকো তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। একই দিনে ইরাকের দু’টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকেও লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স। একাধিক দেশে একসঙ্গে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

বাহরিন সরকারের সূত্র অনুযায়ী, সোমবার সকালে দেশের প্রধান তেল শোধনাগার বাপকো (BAPCO)-তে ড্রোন হামলার পর গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্ট না হলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সিত্রা অঞ্চলে হামলার ঘটনায় কয়েক জন আহত হয়েছেন।

বাপকো বাহরিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধনাগার এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে এই হামলা আন্তর্জাতিক তেল বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ইরাকেও মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার খবর সামনে এসেছে। রয়টার্স নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক ড্রোন ও রকেট ছোড়া হয়। তবে সি-র‌্যাম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে বেশ কয়েকটি ড্রোন ও রকেট প্রতিহত করেছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে দিয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে লেবাননে ইরান সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ-র ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল। সোমবার সকালেও বেইরুটে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে বোমাবর্ষণের খবর মিলেছে।

ইরানের অভ্যন্তরেও সংঘাতের উত্তাপ বাড়ছে। ইজ়রায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, মধ্য ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে নতুন করে গোলাবর্ষণ শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবও কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরানকে। সৌদি বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বাড়বে এবং তার প্রভাব গোটা অঞ্চলের উপর পড়বে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় সৌদি আরবে কর্মরত মার্কিন নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, যাঁরা জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের অবিলম্বে সৌদি ছেড়ে চলে যেতে হবে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে এবং এর প্রভাব আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন