THAAD Radar ধ্বংস—পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সমীকরণে বড় ধাক্কা লাগার দাবি উঠেছে। ইরানের দাবি, জর্ডনের মুয়াফ্ফক সাল্টি মার্কিন সেনাঘাঁটিতে মোতায়েন করা অত্যাধুনিক THAAD (Terminal High Altitude Area Defense) রেডার ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে রেডার ব্যবস্থার কাছাকাছি বড় আকারের গর্তও দেখা গিয়েছে। এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যেমন CNN এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সংস্থাও। এর আগে কাতারে মার্কিন AN/FPS-132 রেডারও উড়িয়ে দিয়েছিল তেহরান।
জর্ডনের মার্কিন ঘাঁটিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল সেখানে মোতায়েন করা উন্নতমানের রেডার ব্যবস্থা। এই সেনাঘাঁটিটি পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ইরান থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।


‘THAAD’ বা Terminal High Altitude Area Defense হল আমেরিকার অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মূল কাজ হল বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তর বা মহাকাশের প্রান্ত থেকে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করে দেওয়া। এই ব্যবস্থায় কোনও বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয় না। বরং গতিশক্তি ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্রকে আঘাত করে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম শক্তি হল এর উন্নত রেডার প্রযুক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, THAAD-এর রেডার প্রায় ১০০০ কিলোমিটার দূর থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন শনাক্ত করতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থা Lockheed Martin এই প্রযুক্তি তৈরি করেছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া, গুয়াম, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, ইজরায়েল ও জর্ডনে এই ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সংস্থা Center for Strategic and International Studies (CSIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মোট আটটি THAAD রেডার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই জর্ডনের এই ব্যবস্থাটি সত্যিই ধ্বংস হয়ে থাকলে তা আমেরিকার জন্য বড় কৌশলগত ধাক্কা বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।


এর আগে কয়েকদিন আগেই কাতারের আল উদেইদ মার্কিন বায়ুসেনাঘাঁটিতে থাকা AN/FPS-132 রেডার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই রেডারটির পাল্লা প্রায় ৫০০০ কিলোমিটার এবং এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে শত্রুপক্ষের ড্রোন, রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম ছিল।
২০১৩ সালে কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে এই রেডার ব্যবস্থা বসানো হয়েছিল। আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় AN/FPS-132 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই ধারাবাহিকভাবে মার্কিন রেডার ব্যবস্থাকে নিশানা করা হলে তা পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, জর্ডন ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরবে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যদিও এই সব হামলার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনের তরফে পূর্ণাঙ্গভাবে কোনও সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।








