মার্কিন হুমকির তোয়াক্কা নয়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়েই যাবে ইরান, যুদ্ধের দিকে পরিস্থিতি?

মার্কিন সামরিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মাঝেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা তেহরানের। আলোচনার মাঝেই কড়া সুরে বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যে বাড়ল উত্তেজনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনার পারদ চড়ছে। সামরিক চাপ, নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও নিজের অবস্থানে অনড় তেহরান। মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিল—ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি তারা কোনওভাবেই বন্ধ করবে না। এই কড়া বার্তা নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

রবিবার তেহরানে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ভয় দেখিয়ে বা সামরিক চাপ সৃষ্টি করে ইরানের পারমাণবিক নীতি বদলানো যাবে না। তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালাতে গিয়ে ইরানকে দীর্ঘদিন ধরেই মূল্য দিতে হয়েছে, কিন্তু তাতে তাদের অবস্থান বদলায়নি।

আরাগচির কথায়, “আমাদের আচরণ কেমন হবে, তা নির্দেশ দেওয়ার অধিকার কারও নেই। যুদ্ধ চাপিয়ে দিলেও আমরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ছাড়ব না।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার কোনও বিদেশি শক্তির নেই।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আবহেই বহু বছর পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাগচি। তবে সেই আলোচনার মাত্র দু’দিনের মাথায় তাঁর কড়া মন্তব্যে নতুন করে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরানের বিদেশমন্ত্রী অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও সমুদ্রে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের মোতায়েনকে ‘চাপ সৃষ্টির ব্যর্থ কৌশল’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের সামরিক প্রদর্শনে তেহরান ভীত নয়।

একইসঙ্গে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন আরাগচি। তিনি বলেন, ইরানের স্বাধীনতা বা জাতীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনও চুক্তিতে তেহরান রাজি হবে না। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে আস্থা-নির্মাণমূলক কিছু পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে ইরান—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।

পশ্চিমী দেশ ও ইজরায়েলের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে এসেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।

এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী অঞ্চলে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন জারি রেখেছে। বিমানবাহী রণতরী পরিদর্শনের পর মার্কিন প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এই উপস্থিতি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আলোচনাকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে একইসঙ্গে নতুন নিষেধাজ্ঞার পথেও হাঁটছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলির উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প। তেল রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত সংস্থা ও জাহাজগুলোর উপরও নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ইরান জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং মার্কিন আচরণের উপর নির্ভর করেই আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

এদিকে, ইরানের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক দুর্দশা ও রাজনৈতিক অসন্তোষ ঘিরে বিক্ষোভ পরিস্থিতিকেও আরও জটিল করে তুলেছে। সরকারি হিসাবে সাম্প্রতিক অশান্তিতে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন