আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি অভিযানের পর রাজ্য রাজনীতিতে যে ঝড় উঠেছে, তার মধ্যেই তদন্তে এক ধাপ এগোল কলকাতা পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অভিযোগের ভিত্তিতে নথি চুরির তদন্ত শুরু করেছে লালবাজার। এবার অভিযানে অংশ নেওয়া ইডি আধিকারিকদের পরিচয় জানতে সরাসরি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-কে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে যে অভিযান চালানো হয়, তা ইডির এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের নেতৃত্বেই হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার পদমর্যাদার আরও কয়েক জন আধিকারিক। তবে তাঁরা কারা—নাম, পদবি ও ব্যাজ নম্বর জানতে ই-মেল মারফৎ ইডিকে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হচ্ছে।
শুধু ইডি আধিকারিকরাই নন, অভিযানের সময় তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআরপিএফ-এর ছয় জন জওয়ানের পরিচয়ও জানার চেষ্টা করছে লালবাজার। এ জন্য সিআরপিএফের পূর্বাঞ্চলীয় দফতরেও ই-মেল পাঠানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তদন্তের অংশ হিসেবে শনিবার কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান। সেখান থেকে সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিভিআর বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ির পরিচারিকা, নিরাপত্তারক্ষী এবং আবাসনের সিকিউরিটি রেজিস্টারও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানের দিন ইডি আধিকারিকরা রেজিস্টারে নাম লিখেছিলেন কি না, বা আদৌ লিখেছিলেন কি না—সেটিও তদন্তের আওতায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনে প্রতীক জৈন, তাঁর স্ত্রী ও মায়ের বয়ানও রেকর্ড করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই আবাসনের ফেসিলিটি ম্যানেজারকে তলব করেছে লালবাজার।


সময়কালও খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে তদন্তে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ইডি আধিকারিকরা প্রতীক জৈনের বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং বেরোন দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে। পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন সকাল ১১টা ১৫ থেকে ১১টা ২০ মিনিটের মধ্যে। পুলিশ আসার আগে ও পরে কী কী ঘটেছে—তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের বডি-ক্যামেরার ভিডিও দেখে। জানা গিয়েছে, সেদিন কয়েক জন পুলিশ কর্মীর উর্দির সঙ্গে বডি-ক্যাম লাগানো ছিল এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তাতে ধরা পড়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন-এর লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি ও সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানা দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী নিজে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দলীয় ও বৈদ্যুতিন নথি ওই বাড়ি ও অফিসে ছিল, যা তল্লাশির নামে চুরি করা হয়েছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে শেক্সপিয়র সরণি থানা এবং ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানা-য় ইডির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার পর থেকেই রাজ্য পুলিশের তরফে আলাদা করে নথি চুরির তদন্ত শুরু হয়েছে, যা কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে।









