সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি আবারও পিছিয়ে গেল। টানা তৃতীয় বার স্থগিত হল এই মামলার শুনানি, যা ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। বুধবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি সঞ্জীব মেহতার বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হল না। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৬ মার্চ।
এই মামলার প্রথম শুনানি হওয়ার কথা ছিল ৩ ফেব্রুয়ারি। সে দিন আদালতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আবেদন করে জানায়, রাজ্যের দেওয়া হলফনামা খতিয়ে দেখার জন্য সময় প্রয়োজন। পাশাপাশি তারা পাল্টা হলফনামা জমা দিতে চায়। সেই আবেদন মেনে সুপ্রিম কোর্ট এক সপ্তাহের জন্য শুনানি পিছিয়ে দেয় এবং পরবর্তী দিন ধার্য হয় ১০ ফেব্রুয়ারি।


তবে ১০ ফেব্রুয়ারিতেও শুনানি হয়নি। সে দিন রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বলের অসুস্থতার কারণে মামলার শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। আদালতের নির্দেশ মতো বুধবার ফের শুনানির দিন ঠিক হয়েছিল।
কিন্তু বুধবার কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল আদালতে জানান, রাজ্যের হলফনামার জবাব প্রস্তুত থাকলেও তা এখনও জমা দেওয়া হয়নি। একই দিনের মধ্যে তা জমা দেওয়া হবে বলে আদালতকে আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপরই বেঞ্চ প্রায় এক মাসের জন্য শুনানি পিছিয়ে ১৬ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলায় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তদন্তে বাধা ও নথি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে ইডি। পাল্টা রাজ্যও আদালতের দ্বারস্থ হয়।


১৫ জানুয়ারির শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, ইডির বিরুদ্ধে মামলাকারী পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে ২ ফেব্রুয়ারি রাজ্য হলফনামা জমা দেয় এবং ইডির মামলা খারিজের আবেদন জানায়। রাজ্যের যুক্তি, এই মামলা দায়ের করার মৌলিক অধিকার ইডির নেই এবং তল্লাশির পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।








