UNESCO-র নাম ব্যবহার করে প্রিপুজো টিকিট বিক্রি! ইন্দ্রনীল সেন ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

UNESCO-র নাম ব্যবহার করে প্রিপুজোর টিকিট বিক্রি ও অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগে বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতার দুর্গাপুজোকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। UNESCO-র নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে প্রিপুজোর টিকিট বিক্রি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থার পক্ষ থেকে দায়ের হওয়া এই অভিযোগে কোটি টাকার লেনদেনেরও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুধু বউবাজার থানাই নয়, বিষয়টি রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছেও জানানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো UNESCO-র ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ স্বীকৃতি পাওয়ার পর সেই স্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ গড়ে তোলা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে ‘মাসআর্ট’ নামে একটি সংস্থা আত্মপ্রকাশ করে এবং UNESCO-র নাম ও লোগো ব্যবহার করে বিভিন্ন কর্মসূচির প্রচার শুরু করে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সংস্থার প্রেসিডেন্ট হলেন ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে UNESCO-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কলকাতার ২৪টি দুর্গাপুজোকে বিশেষভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।

তবে জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর কথায়, UNESCO-র সঙ্গে মাসআর্টের কোনও ধরনের চুক্তি বা অংশীদারিত্ব ছিল না। তা সত্ত্বেও UNESCO-র নাম ব্যবহার করে প্রিপুজোর টিকিট বিক্রি করা হয়েছে এবং সেই সূত্রে বিপুল অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ।

বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় তিনি নিজেই UNESCO-র সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে দাবি করেছেন। অভিযোগকারীর বক্তব্য, UNESCO-র তরফে তাঁকে জানানো হয় যে মাসআর্ট নামে কোনও সংস্থার সঙ্গে তাদের কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি নেই। এমনকি সংস্থাটিকে UNESCO-র নাম বা লোগো ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়নি।

জয়দীপবাবু দাবি করেছেন, UNESCO-র তরফে পাওয়া ই-মেল এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এই ঘটনা শুধু আর্থিক অনিয়মের প্রশ্ন নয়, দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সঙ্গেও জড়িত। তাই গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, ঘটনাগুলির সূত্রপাত ২০২২-২৩ সালেই হলেও সে সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে সরব হতে পারেননি। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর দাবি, অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। ফলে এখন নজর তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপের দিকে। অভিযোগে উল্লিখিত নথি ও তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে পুলিশ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই আগামী দিনে এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন