ধ্বংসস্তূপে পরিণত পাক বায়ুসেনা ঘাঁটি, উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ল ইসলামাবাদের চরম দুরবস্থা। নুর খান-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা, ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে উপগ্রহচিত্রে। রহিম ইয়ার খান ও সরগোদার রানওয়ে অচল। আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে পাকিস্তানের পরমাণু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন।
ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ নিতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ কার্যত কাঁপিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানকে। এই অভিযানের জেরে ইসলামাবাদের সামরিক পরিকাঠামোয় চরম ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে একাধিক উপগ্রহচিত্রে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলির বরাতে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।


ধ্বংসস্তূপে পরিণত পাক বায়ুসেনা ঘাঁটি, উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ল ইসলামাবাদের চরম দুরবস্থা

১১টি পাক বিমানঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রাথমিক ধাপে ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের ১১টি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমানহানা চালায়। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য নুর খান, ভালোরি, সরগোদা এবং রহিম ইয়ার খান বায়ুসেনা ঘাঁটি। উপগ্রহচিত্রে দেখা গিয়েছে, এই ঘাঁটিগুলিতে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, রানওয়ে জলে ভর্তি হয়ে যেন পুকুরে পরিণত হয়েছে।

নুর খানে ধ্বংস পাক যুদ্ধবিমান, চিন্তা পরমাণু অস্ত্র নিয়ে: রাওয়ালপিন্ডির কাছে অবস্থিত নুর খান ঘাঁটির এক বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এখানেই পাকিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার থাকার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার। এই ঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানহানায় একাধিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। এর জেরে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের গুজব ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। যদিও আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা IAEA জানিয়েছে, কোনও বিকিরণের প্রমাণ তারা পায়নি।



রহিম ইয়ার খান ও সরগোদার রানওয়েতে বিশাল গর্ত: রহিম ইয়ার খান ও সরগোদা ঘাঁটির উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, যুদ্ধবিমান ওঠানামা করার মূল রানওয়েগুলিতে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান বিমানবাহিনী ১০ মে একটি বিবৃতিতে স্বীকার করে নেয় যে, রহিম ইয়ার খানের রানওয়ে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং আপাতত তা ব্যবহার অনুপযোগী।

ভালোরিতে হ্যাঙ্গার উড়ে গিয়েছে, মৃত ৫০: দক্ষিণ পাকিস্তানের করাচির নিকটে অবস্থিত ভালোরি ঘাঁটিতে ভারতীয় জেট থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সোজা গিয়ে ধাক্কা মারে যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার এলাকায়। এতে প্রায় ৫০ জন পাক সেনা ও অফিসার নিহত হন, যাঁদের মধ্যে ছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার ওসমান ইউসুফও।
পাকিস্তানের পালটা হামলা ব্যর্থ, ভারতীয় ঘাঁটি অক্ষত: ইসলামাবাদ দাবি করেছিল, ভারতের আদমপুর ঘাঁটিতে তারা তীব্র হামলা চালিয়ে এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস করেছে। কিন্তু উপগ্রহচিত্রে তার কোনও প্রমাণ মেলেনি। উল্টে ১৩ মে প্রধানমন্ত্রীর আদমপুর সফরের সময় সেই অস্ত্রকে দৃশ্যমান অবস্থায় দেখা গিয়েছে।

ড্রোন হামলায় উড়ল পাক ডিফেন্স সিস্টেম: ভারতীয় সেনা ইজরায়েলের তৈরি ‘হারোপ’ কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করে পাকিস্তানের লাহৌরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—চিনের তৈরি HQ-9P—সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা নিখুঁত নিশানায় চালানো হয়।
পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির স্বীকৃতি ও তথ্য-যুদ্ধ: পাকিস্তানের আইএসপিআর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তান দুইটি JF-17 যুদ্ধবিমান হারিয়েছে। অন্যদিকে, ইসলামাবাদ বারবার ভারতের ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি করলেও তার কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষবিরতির আবেদন কে করল? ১০ মে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়। নয়াদিল্লির দাবি, পাক ডিজিএমও ফোন করে ভারতীয় পক্ষকে সংঘর্ষ থামানোর অনুরোধ জানান। যদিও ইসলামাবাদ এই দাবি অস্বীকার করেছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাল্টা বলেন, “প্রমাণ উপগ্রহচিত্রেই রয়েছে। পাকিস্তানের আর কোনও পথ খোলা ছিল না।”
জম্মু-কাশ্মীরে পহেলগাঁও হামলার বদলা: ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় ২৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। তার পরেই শুরু হয় ভারতীয় প্রতিশোধপর্ব। ৭ মে রাতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ৯টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। এর জেরেই আরও তীব্র হয় সামরিক সংঘাত।
সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ফের উত্তেজনা: পহেলগাঁও হামলার পরে মোদী সরকার সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে। ইসলামাবাদ একে ‘রেড লাইন’ লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জল আমাদের অধিকার। ভারত সেটা বন্ধ করলে তার ফল ভয়ঙ্কর হবে।”
১৫ মে জম্মু-কাশ্মীরে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “এই ধরনের দুর্বৃত্ত দেশে পরমাণু অস্ত্র কতটা নিরাপদ, তা বিশ্বকে ভাবতে হবে।” তিনি পরমাণু অস্ত্র ব্যবস্থার উপরে আন্তর্জাতিক নজরদারির দাবি তোলেন।









