ভারতীয় অর্থনীতির জন্য নতুন সতর্কবার্তা—রুপির দামে লাগামহীন পতন। ডলারের বিপরীতে রুপির দর প্রথমবার ৯৩ ছুঁয়ে ইতিহাস তৈরি করল, যা শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং বাজারে বাড়তে থাকা চাপ ও অনিশ্চয়তার স্পষ্ট ইঙ্গিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন দীর্ঘমেয়াদে আমদানি খরচ, মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
শুক্রবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময়দর নেমে আসে ৯২.৯৪-এ, যা ছিল নতুন রেকর্ড নিম্নস্তর। খুব দ্রুতই তা ৯৩-এর গণ্ডি পেরিয়ে যায়। এর আগে বুধবারই রুপির দর নেমেছিল ৯২.৬৩-এ, সেটিও ছিল সেই সময়ের সর্বনিম্ন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই রেকর্ড ভেঙে আরও তলানিতে পৌঁছল ভারতীয় মুদ্রা।


এই ধারাবাহিক পতনের পিছনে একাধিক কারণ দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তার মধ্যে অন্যতম। এই পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে। ভারত তার জ্বালানির বড় অংশই আমদানি করে, ফলে তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়, যা সরাসরি চাপ তৈরি করে রুপির উপর।
এছাড়াও, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ ভারতীয় বাজার থেকে লগ্নি তুলে নিচ্ছে। ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ছে এবং রুপির উপর আরও চাপ পড়ছে। এই দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাবেই মুদ্রার দর ক্রমাগত দুর্বল হচ্ছে।
যদিও শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কিছুটা কমেছে, তবুও তা প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারের উপরে রয়েছে। অর্থাৎ জ্বালানির চাপ এখনও কাটেনি।


অন্যদিকে, আগের দিনের ধস কাটিয়ে শুক্রবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে শেয়ার বাজার। সেনসেক্স ও নিফটি৫০—উভয় সূচকই ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু তাতেও রুপির পতনের ধারা থামেনি।
সব মিলিয়ে, রুপির এই ঐতিহাসিক পতন দেশের অর্থনীতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল, যার প্রভাব আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হতে পারে।









