নজরবন্দি ব্যুরোঃ দক্ষিণ চিন সাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠাল ভারতীয় নৌসেনা। ২০০৯ সাল থেকেই দক্ষিণ চিন সাগরে নিজেদের নৌবহর সর্বদা মজুত রাখে ভারত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কয়েকগুন বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে লাদাখের আকাশে চলছে বায়ু সেনার মহড়া। জল এবং স্থল দুতরফের চাপে পড়ে চিন এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করেছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ভারতীয় নৌসেনার দাপাদাপি বন্ধ করার অনুরোধ করে চিন।
আরও পড়ুনঃ আত্মরক্ষায় ৯০ হাজার ত্রিশূল বিলি! সেপ্টেম্বরে নবান্ন অভিযান বিজেপির।
যদিও ভারত জানিয়ে দিয়েছে দক্ষিন চিন সাগরে নৌসেনা মোতায়েন থাকবেই। সংবাদ সংস্থা ANI কে এক সেনা আধিকারিক জানিয়েছেন, “গালওয়ানে চিনা হামলায় ভারতের ২০ জওয়ান শহিদ হওয়ার পরেই ভারতীয় নৌসেনা একটি আক্রমণাত্মক যুদ্ধজাহাজকে দক্ষিণ চিন সাগরে পাঠায়। চিন এর তীব্র বিরোধিতা করে।” জানা গিয়েছে শুধু দক্ষিন চিন সাগরে শুধু ভারত নয় আমেরিকাও তাঁদের রণতরী নিয়ে অপেক্ষ্মান চিনা হামলার উত্তর দেওয়ার জন্যে। ভারত এবং আমেরিকার নৌসেনা একে অপরের সাথে সংযোগ রক্ষা করে চলেছে প্রতি মুহুর্তে।
দক্ষিণ চিন সাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠাল ভারতীয় নৌসেনা। চিনের নৌসেনা যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও একসাথে ভারত এবং আমেরিকার সাথে মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়। সেই কারনেই নিজের এলাকার গা ঘেঁষে অপেক্ষ্মান দুই বিপুল শক্তিধর শত্রুদেশের নৌবহর দেখে অস্বস্তিতে পড়েছে বেজিং। সেই কারনেই ভারত কে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে চিন বার বার আবেদন করেছে নৌসেনা কে পিছিয়ে নেওয়ার। যদিও সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে ভারত।
উল্লেখ্য, ভারতীয় ভুখণ্ড নিজেদের দখলে আনবে বলে শকুনের দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে চিন। ১৫ জুন পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনা সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা সদস্য শহিদ এবং ৭৬ জন জখম হওয়ার পরে ভারতে চিনা পণ্য বয়কটের দাবি জোরালো হয়। দেশের একাধিক প্রান্তে চিনের জাতীয় পতাকা ও প্রেসিডেন্ট শি জিংপিনের ছবি পোড়ানোর পাশাপাশি চিনা পণ্য ব্যবহার বন্ধ করার দাবি ওঠে। ভারত সরকার চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে সার্জিক্যালের যায়গায় ডিজিটাল স্ট্রাইক করে।
যদিও সীমান্তে যুদ্ধের আবহ থাকলেও চিনা দ্রব্য আমদানির মাত্রার রেকর্ড বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের এপ্রিল এবং মে মাসে ভারত চিন থেকে ৩.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের দ্রব্য আমদানি করেছিল। সেখানে জুন এবং জুলাই মাসের আমদানির বহর দেখলে চোখ কপালে উঠবে। চিনের সাথে এত সমস্যা, চিনা পন্য বয়কট তথা অ্যাপ নিষিদ্ধ করার আড়ালে জুন মাসে ৪.৮ বিলিয়ন ডলারের পন্য আমদানি করে ভারত। সেই অঙ্ক জুলাই অর্থাৎ গত মাসে পৌঁছে যায় ৫.২ বিলিয়ন ডলারে।



