২১০ রানের লক্ষ্যে ভেঙে পড়ল নামিবিয়া, ভারতের দাপটে ১১৬ তেই শেষ সব ব্যাটার

২১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো করেও শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ল নামিবিয়া। হার্দিক, বুমরাহ, বরুণ ও অক্ষরের দাপটে ১১৬/৯ স্কোরে ম্যাচ ভারতের দখলে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল ভারত, কিন্তু স্কোরবোর্ডের এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে রইল একাধিক প্রশ্ন। নামিবিয়ার মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৯৩ রানে জিতলেও ইনিংসের শেষভাগের ধস, ওপেনিং জুটির অনিশ্চয়তা এবং মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা পাকিস্তান ম্যাচের আগে ভারতীয় শিবিরকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।

দিল্লির মাটিতে প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ২০৯ রান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নামিবিয়া ১৮.২ ওভারে গুটিয়ে যায় ১১৬ রানে। ফলে সহজ ব্যবধানে জয় এলেও ব্যাটিংয়ের শেষ দিকের পতন টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে ভাঁজ ফেলেছে।

অসুস্থ অভিষেক শর্মার জায়গায় সুযোগ পেয়েছিলেন সঞ্জু স্যামসন। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শুরুটা আগ্রাসী হলেও সেটাকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারলেন না। মাত্র ৮ বলে ২২ রান করে উইকেট ছুঁড়ে দেন তিনি। নিউ জিল্যান্ড সিরিজেও রান না পাওয়া সঞ্জুর এই ব্যর্থতা পাকিস্তান ম্যাচের আগে ভারতীয় শিবিরে নতুন প্রশ্ন তুলে দিল।

তবে ভারতের দ্রুতগতির শুরুটা এনে দেন ঈশান কিশন। মাত্র ২৪ বলে ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংসে পাওয়ার প্লে–তেই দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ৬.৫ ওভারে ১০০ রান তুলে বিশ্বকাপের দ্রুততম দলীয় শতরানের নজিরও গড়ে ভারত। তিলক বর্মা ২১ বলে ২৫ করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও ব্যর্থ, ১৩ বলে ১২ রানেই থামেন।

মাঝের ওভারে দলের হাল ধরেন হার্দিক পাণ্ড্য। ২৮ বলে ৫২ রানের ইনিংসে তিনি স্কোর ২০০–র কাছে নিয়ে যান। শিবম দুবে ১৬ বলে ২৩ করে ভাল ছন্দে থাকলেও রিঙ্কু সিংয়ের ভুলে রান আউট হয়ে ফেরেন। শেষ দিকে ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ১১ বলে ৫ উইকেট হারায় ভারত। শেষ দুই ওভারে আসে মাত্র ১০ রান—যা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের মানের সঙ্গে খাপ খায় না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নামিবিয়ার হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন অধিনায়ক জেরহার্ড ইরাসমাস। চার ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। ভারতের ৭ উইকেটের মধ্যে ৫টিই যায় স্পিনারদের ঝুলিতে, যা কলম্বোর ধীর পিচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে।

২১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা আগ্রাসী ছিল নামিবিয়ার। মাত্র ৫.৪ ওভারে ৫০ রান তুলে ফেলে তারা। তবে এরপর ম্যাচে ফেরেন ভারতীয় স্পিনাররা। বরুণ চক্রবর্তী এক ওভারে জোড়া উইকেট তুলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। অক্ষর পটেল ও হার্দিক পাণ্ড্যও নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে নেন।

শেষ পর্যন্ত নামিবিয়া গুটিয়ে যায় ১১৬ রানে। ভারতের হয়ে বরুণ ৭ রানে ৩ উইকেট নেন। হার্দিক ও অক্ষর নেন দু’টি করে উইকেট। বুমরাহ, অর্শদীপ ও শিবম পান একটি করে সাফল্য।

জয় এলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মহারণের আগে ভারতের ব্যাটিং ও দল নির্বাচন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে গৌতম গম্ভীর ও টিম ম্যানেজমেন্টকে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত