ভারত বনাম ইংল্যান্ডের চতুর্থ টেস্টের তৃতীয় দিনে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের সাক্ষী থাকলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। দিনের শেষে ইংল্যান্ড ২২৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে মাঠ ছাড়ে, যেখানে তারা ভারতের ৩৫৮ রানের জবাবে এখন মাত্র ১৩৩ রানে পিছিয়ে।
ভারতের হয়ে দিনের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্তভাবে, বিশেষ করে ঋষভ পন্থের অনবদ্য ৫৪ রানের ইনিংসে, যা তিনি পা ভাঙা অবস্থাতেই খেলেন। সেই ইনিংস যেমন অনুপ্রেরণামূলক, তেমনই স্মরণীয় হয়ে থাকবে ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে।


স্টোকসের দুর্দান্ত কামব্যাক
৮ বছর পর নিজের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকার করেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস। ৭২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন তিনি। স্টোকসের বোলিংয়ে যেমন আগুন ছিল, তেমনই মেজাজে ছিলেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার।
ডাকেট-ক্রাউলি জুটি ভাঙল ভারতের মনোবল
ইংল্যান্ডের ব্যাটিং শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল। জ্যাক ক্রাউলি এবং বেন ডাকেট মিলে ১৯৫ বলে ১৬৬ রানের এক দুর্ধর্ষ জুটি গড়েন। দু’জনেই ফিফটি করেন ঝড়ের গতিতে— ডাকেট ৪৬ বলে ও ক্রাউলি ৭৩ বলে।
ক্রাউলি ৮৪ রানে রবীন্দ্র জাদেজার বলে কেএল রাহুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। কিছুক্ষণ পরেই ডাকেটও ৯৪ রানে অভিষেককারী অনশুল কম্বোজের বলে ধৃত হন। এটা ছিল কম্বোজের প্রথম টেস্ট উইকেট।



ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন রুট-পোপ
ওই দুই উইকেট হারানোর পর মাঠে নামেন জো রুট ও ওলি পোপ। তারা দু’জনেই রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমায় ইনিংস গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। রুট ১১ রান এবং পোপ ২০ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন দিনের শেষে। বুমরাহর এক এলবিডব্লিউ আবেদন থেকেও রুট রক্ষা পান— বল অফ স্টাম্পের বাইরের দিকে লাগায় সিদ্ধান্ত ভারতের বিপক্ষে যায়।
ভারতীয় বোলারদের খুঁজে ফিরতে হচ্ছে জবাব
ভারতের পেস অ্যাটাক আজকে কিছুটা নিষ্প্রভ ছিল। বুমরাহ ১৩ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন, যদিও তাঁর বোলিং যথেষ্ট আঁটসাঁট ছিল। অনশুল কম্বোজ ১০ ওভারে ৪৮ রানে ১ উইকেট পান, যা তাঁর অভিষেক ম্যাচে আত্মবিশ্বাস যোগাবে।
মোহাম্মদ সিরাজ ছিলেন সবচেয়ে ব্যয়বহুল, ১০ ওভারে দেন ৫৮ রান। জাদেজা ৮ ওভারে ৩৭ রানে ১ উইকেট তুলে নেন। শার্দুল ঠাকুরও ৫ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে উইকেটহীন থাকেন।

ইংল্যান্ডের পরিকল্পনা সফল
তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় দেখা যায় ইংল্যান্ড কৌশলগতভাবে ভারতের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও সঠিক শট সিলেকশন দিয়ে দাপট দেখিয়েছে। তাদের লক্ষ্য হবে আগামী দিনে দ্রুত রান তুলে প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়া।
ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ
ভারতের জন্য এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইংল্যান্ডের বাকি ব্যাটারদের ফিরিয়ে দেওয়া এবং লিডটিকে যতটা সম্ভব কম রাখা।
আগামী দিনে বোলারদের আরও ধৈর্য ধরতে হবে এবং নিখুঁত লাইন-লেন্থে বল করতে হবে যাতে ইংল্যান্ডের এই মোমেন্টাম আটকানো যায়।
চতুর্থ টেস্টের তৃতীয় দিনটা ছিল ইংল্যান্ডের নামেই। ক্রাউলি ও ডাকেটের ব্যাটে ইংল্যান্ড ফিরে পেল আত্মবিশ্বাস, আর ভারতের জন্য এটা ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা এক সন্ধ্যা। চতুর্থ দিনে খেলা কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় এখন ক্রিকেটপ্রেমীরা।







