উপমহাদেশে সামরিক শক্তিতে তৃতীয় ভারতের অবস্থান নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আবারও উঠে এল Asia Power Index 2025। শক্তির এই আন্তর্জাতিক তালিকায় ভারত তৃতীয় স্থানে উঠে এসে নতুন করে ‘মেজর পাওয়ার’ মর্যাদা অর্জন করেছে। সামরিক ক্ষমতা, অর্থনৈতিক ভিত্তি, কূটনৈতিক প্রভাব, ভবিষ্যৎ সম্পদ— এই সবকিছুর সমন্বয়ে গঠিত এই ইনডেক্সে ভারতের উন্নতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
Primary Keyword: উপমহাদেশে সামরিক শক্তিতে তৃতীয় ভারত


প্রতিবছর অস্ট্রেলিয়ার লোই ইন্সটিটিউট এশিয়ার শক্তিশালী দেশগুলির সামগ্রিক প্রভাব পরিমাপ করে Asia Power Index প্রকাশ করে। এবছরের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ৪০.০ স্কোর নিয়ে ভারতের অবস্থান মেজর পাওয়ার তালিকায় সুদৃঢ় হয়েছে। আমেরিকা ও চিনের পরে তৃতীয় স্থানে থাকা ভারত এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নিজের প্রভাব ক্রমশ বাড়িয়ে চলেছে।
উপমহাদেশে সামরিক শক্তিতে তৃতীয় ভারত, ‘এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্সে’ পাকিস্তান কোথায়
এই তালিকায় পাকিস্তানের অবস্থান তুলনায় অনেক নিচে—১৬ নম্বরে। সেরা দশের মধ্যেও স্থান পায়নি প্রতিবেশী দেশটি, যা দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে একটি বড় সংকেত।
ভারতের উত্থান যে শুধুই সামরিক নয়, তা স্পষ্ট। কূটনৈতিক অবস্থান, আঞ্চলিক নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক রিসোর্স এবং প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের সামগ্রিক উন্নতির জোরে India এখন Asia-র অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি।


এদিকে, পাকিস্তানের স্কোর তুলনামূলকভাবে কম থাকায় বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক টানাপড়েন এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা তার সামরিক শক্তির তালিকায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Asia Power Index 2025 — শীর্ষ দেশগুলির অবস্থান
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী:
আমেরিকা – ৮০.৫ (সুপার পাওয়ার)
চিন – ৭৩.৭ (সুপার পাওয়ার)
ভারত – ৪০.০ (মেজর পাওয়ার)
জাপান – ৩৮.৮ (মিডিল পাওয়ার)
রাশিয়া – ৩২.১ (মিডিল পাওয়ার)
অস্ট্রেলিয়া – ৩১.৮ (মিডিল পাওয়ার)
দক্ষিণ কোরিয়া – ৩১.৫ (মিডিল পাওয়ার)
সিঙ্গাপুর – ২৬.৫ (মিডিল পাওয়ার)
ইন্দোনেশিয়া – ২২.৫ (মিডিল পাওয়ার)
মালয়েশিয়া – ২০.৬ (মিডিল পাওয়ার)
ভারত কেন উপমহাদেশে সামরিক শক্তিতে তৃতীয়— কারণ বিশ্লেষণ
সামরিক আধুনিকীকরণ, যুদ্ধবিমানের সংখ্যা বৃদ্ধি, সাবমেরিন স্কোয়াড্রন শক্তিশালীকরণ, সাইবার ও স্পেস ডিফেন্স বাড়ানো— এসব ফ্যাক্টর ভারতের স্কোর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। পাশাপাশি Operation Sindoor ও বহু সামরিক চুক্তিও ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরো স্থায়ী করেছে।
লোই ইন্সটিটিউটের রিপোর্ট বলছে, ভবিষ্যৎ সম্পদের স্কেলে ভারত আরও ওপরে উঠতে পারে যদি সামরিক ও অর্থনৈতিক দিকের উন্নতি একই গতিতে অব্যাহত থাকে।
পাকিস্তানের পতন কেন?
পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতাকে স্বীকার করলেও রিপোর্টে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক দুর্বলতা, বিদেশি নির্ভরতা, সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেট এবং আঞ্চলিক প্রভাব কমে যাওয়ার কারণে Pakistan এশিয়ার পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়ছে। সেরা দশের বাইরে থাকা তাদের কৌশলগত অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এশিয়ার শক্তির হিসেব পাল্টে যাচ্ছে
২০১৮ সালে সূচনা হওয়ার পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের স্কোর এতটা নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন ও বৈশ্বিক দ্বন্দ্বের কারণে এই পতন। অন্যদিকে, চিন এবং রাশিয়া নিজেদের কৌশলগত প্রভাব বাড়িয়ে চলেছে, যার সরাসরি প্রভাব Asia Power Index-এ দেখা যাচ্ছে।
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়াও শক্তি বৃদ্ধি করেছে, যা ভবিষ্যতের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।








