ব্রহ্মসের থেকেও দূরপাল্লার মারণাস্ত্র! ইজরায়েলের ‘গোল্ডেন হরাইজ়ন’ পেতে চলেছে ভারতীয় বায়ুসেনা

১৫০০–২০০০ কিমি পাল্লার এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘গোল্ডেন হরাইজ়ন’ ভারতীয় বায়ুসেনায় যুক্ত হতে পারে। ইজরায়েল সফর ঘিরে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে জোর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তি আরও এক ধাপ এগোতে চলেছে। ১৫০০ থেকে ২০০০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুঘাঁটিতে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘গোল্ডেন হরাইজ়ন’ ভারতীয় বিমানবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করতে ইজরায়েলের সঙ্গে নয়াদিল্লির কৌশলগত সমঝোতার অংশ হিসেবেই এই দূরপাল্লার এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল ভারতের অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হতে পারে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রের ইঙ্গিত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইজরায়েল সফরকে ঘিরেই এই প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন গতি পেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সন্ত্রাস দমন ও যৌথ অস্ত্র উৎপাদন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রের দাবি, সেই আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশই ‘গোল্ডেন হরাইজ়ন’ ক্ষেপণাস্ত্র।

এই ক্ষেপণাস্ত্র একটি এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল, অর্থাৎ যুদ্ধবিমান থেকেই এটি উৎক্ষেপণ করা যায়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এর পাল্লা প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। লক্ষ্যবস্তুর আকাশসীমায় প্রবেশ না করেই দূর থেকে হামলা চালানোর ক্ষমতা থাকায় এটি আধুনিক যুদ্ধকৌশলে অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত।

ইজরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। হামাসের ঘাঁটিতে দূরবর্তী আকাশপথ থেকে পরিচালিত নির্ভুল হামলার পর আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে ধারণা তৈরি হয় যে, সেই অভিযানে ‘গোল্ডেন হরাইজ়ন’ বা তার উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছিল। যদিও ইজরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করেনি।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার, শক্তিশালী সামরিক অবকাঠামো এবং সুরক্ষিত কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করার জন্য তৈরি। সাধারণ এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মিসাইল যেখানে ব্যর্থ হয়, সেখানে উচ্চগতির ব্যালিস্টিক গতিপথে নেমে এসে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে এই অস্ত্র।

একবার উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি উচ্চতায় উঠে ব্যালিস্টিক গতিপথ অনুসরণ করে এবং পরে হাইপারসনিক গতিতে (ম্যাক ৫-এর বেশি) লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে আসে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ফলে শত্রুপক্ষের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের পক্ষে এটিকে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।

চুক্তি চূড়ান্ত হলে ভারতই হবে প্রথম বিদেশি দেশ, যার হাতে ইজরায়েলি প্রযুক্তিতে তৈরি এই অস্ত্র তুলে দেওয়া হবে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর সুখোই সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হতে পারে বলে প্রতিরক্ষা মহলের অনুমান।

বর্তমানে ভারতের অস্ত্রভাণ্ডারে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ় মিসাইল থাকলেও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দীর্ঘ পাল্লার স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্রহ্মস যেখানে সুপারসনিক গতিতে নির্ভুল আঘাত হানে, সেখানে গোল্ডেন হরাইজ়ন ব্যালিস্টিক গতিপথ ও অতিদূর পাল্লার কারণে কৌশলগত সুবিধা বাড়াবে।

সব মিলিয়ে, এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনার আঘাত হানার পরিধি ও কৌশলগত ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলেই মত প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন