ভারতের আকাশসীমা আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। ফ্রান্স থেকে ১১৪টি নতুন রাফালে যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ‘ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল’ (ডিএসি)। প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকার এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা হবে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম প্রতিরক্ষা ক্রয়—যার প্রভাব সরাসরি পড়বে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল। রাফালের পাশাপাশি ৬টি নতুন সমুদ্র টহলদারি বিমান পি-৮আই কেনার প্রস্তাবেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ফলে আকাশ ও সমুদ্র—দুই ক্ষেত্রেই নজরদারি ও আক্রমণক্ষমতা বাড়াতে চাইছে ভারত।


প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা সচিবের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স প্রোকিওরমেন্ট বোর্ডের মূল্যায়ন পেরিয়েছে। তাদের অনুমোদনের পরই ডিএসি চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দফায় ভারতে তৈরি রাফালে বিমানে থাকবে প্রায় ৩০ শতাংশ দেশীয় যন্ত্রাংশ। ধাপে ধাপে সেই হার বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী ১১৪টির মধ্যে ১৮টি যুদ্ধবিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে আনা হবে। বাকি বিমানগুলি তৈরি হবে ভারতে, যা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এক দশক আগে রাফাল চুক্তির সময় ভারতীয় বায়ুসেনা ১২৬টি যুদ্ধবিমানের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩৬টি রাফাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে ধাপে ধাপে মিগ-২১ ও মিগ-২৩ বাতিল হওয়ায় বায়ুসেনার স্কোয়াড্রনের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে ৪২টি ফাইটার স্কোয়াড্রন থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৩২-এ। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের তৈরি তেজস মার্ক-১এ যুদ্ধবিমান সরবরাহেও দেরি হওয়ায় ঘাটতি আরও প্রকট হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পুরনো প্রতিরক্ষা সহযোগী ফ্রান্সের সঙ্গে নতুন চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত সেই ঘাটতি পূরণ করতে চাইছে কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণেও তার প্রভাব পড়বে।








