ট্রাম্পের ভাষায় জবাব ভারতের, ৩১,৫০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করল ভারত

রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের দ্বিমুখী শুল্কনীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিল ভারত, বাতিল হল P-8I Poseidon বিমান কেনার চুক্তি

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

৩১,৫০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করে আমেরিকাকে বড়সড় কূটনৈতিক বার্তা দিল ভারত। আমেরিকার সঙ্গে বহু প্রতীক্ষিত P-8I Poseidon বিমান কেনার এই চুক্তি ছিল ভারতের নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির জবাবে, ভারত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের রফতানিপণ্যের উপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। আগামী ২৭ অগাস্ট থেকে আমেরিকায় পণ্য রফতানি করতে হলে ভারতকে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এই সিদ্ধান্ত ভারতের রপ্তানিকারক এবং উৎপাদকদের উপর বিরাট প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ভারতের মতে, এই শুল্কনীতি একেবারেই পক্ষপাতদুষ্ট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ, আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলিও রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কিনছে। কিন্তু শুধুমাত্র ভারতকে নিশানা করে শুল্ক বাড়ানো মানেই দ্বিমুখী নীতির পরিচয়।

এই পরিস্থিতিতে ভারত সিদ্ধান্ত নেয়, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের এই চাপের কাছে মাথা নত করবে না। এরই অংশ হিসেবে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক মার্কিন বোয়িং সংস্থার সঙ্গে করা বিমান ক্রয়ের চুক্তি বাতিল করে দেয়।

ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ছ’টি P-8I Poseidon নজরদারি বিমান কেনার কথা ছিল এই চুক্তির অধীনে। এই বিমানগুলি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এবং সমুদ্রে নজরদারির ক্ষেত্রে এগুলি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। এর আগেও ভারত বোয়িং-এর কাছ থেকে ১২টি P-8I বিমান কিনেছে। ২০০৯ সালে প্রথম এই বিমান ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে আসে।

বোয়িং-এর সঙ্গে এই বিমান কেনার প্রথম চুক্তি হয়েছিল ২০০৮ সালে। তখন ভারতই ছিল এই বিমানের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রেতা। এর ফলে ভারত-আমেরিকা প্রতিরক্ষা সম্পর্কেও এক নতুন দিশা খুলে গিয়েছিল। কিন্তু এখন ট্রাম্পের শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সেই সম্পর্কেই টান পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বোয়িং-এর জন্য এক বিশাল আর্থিক ধাক্কা। কারণ, এই বিমান তৈরিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে থাকে সংস্থাটি। ভারত চুক্তি বাতিল করায় সেই আর্থিক ক্ষতি পূরণ করা তাদের পক্ষে সহজ হবে না।

এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। সেখানে বলা হয়েছে, কোনও দেশের স্বাধীনভাবে বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। অন্য কোনও রাষ্ট্রের হুমকির ফলে সেই সিদ্ধান্ত পাল্টানো অনুচিত।

রাশিয়াও ভারতের এই অবস্থানে সমর্থন জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের তরফে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভিন্ন দেশকে হুমকি দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করছেন। এটা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির পরিপন্থী।

বিশ্লেষকদের মতে, ৩১,৫০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করে ভারত শুধু আমেরিকাকে নয়, গোটা বিশ্বকে একটি কড়া বার্তা দিল যে তারা আন্তর্জাতিক চাপে মাথা নত করবে না। একইসঙ্গে, তারা আবারও রাশিয়ার পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করল।

এই ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট, ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। আমেরিকার মতো দেশকে প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করে প্রকাশ্যে কড়া জবাব দেওয়া ভারতের কূটনৈতিক শক্তিরও একটি বড় উদাহরণ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত