ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সম্ভাব্য যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। শুক্রবার এক গুরুত্বপূর্ণ চিঠিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসকদের ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দিয়েছে অমিত শাহের দপ্তর।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে— ১৯৬৮ সালের অসামরিক প্রতিরক্ষা বিধির ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে মুখ্যসচিব ও প্রশাসকরা নিজস্ব সিদ্ধান্তে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন। কেন্দ্রীয় অনুমতির অপেক্ষায় না থেকে জনসুরক্ষা, সম্পত্তি রক্ষা এবং পরিষেবা সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনও পদক্ষেপ নিতে পারবেন তাঁরা।


যুদ্ধকালীন জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে আর কোনও জটিলতা নয়। প্রতিদিন সীমান্তে উড়ছে গুলি, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র। পাকিস্তানের তরফে নিয়ন্ত্রণরেখায় চলতে থাকা গোলাবর্ষণের মধ্যেই এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই নির্দেশের ফলে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসন এখন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে,
১) জনতা ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবেন মুখ্যসচিবরা।
২) জল, বিদ্যুৎ, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
৩) অসামরিক প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনাকাটায় কোনও বিধিনিষেধ মানতে হবে না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো জটিল সময়েও ‘লালফিতের ফাঁদে’ না পড়ে কাজ করতে পারবে প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত মূলত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে (যেমন জম্মু-কাশ্মীর, পঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট) দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাতে প্রশাসন বিলম্ব না করে পদক্ষেপ করতে পারে, তার জন্যই এই ‘ফ্রি হ্যান্ড’।


ভারতের একাধিক জায়গায় ড্রোন হামলা ও সীমান্তে গোলাবর্ষণের মতো ঘটনাগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে চাইছে কেন্দ্র।







