পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা। তোষাখানা দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে একটি পাক আদালত। এরই মধ্যে তাঁর দলের দাবি, জেলে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন ইমরান—চিকিৎসা না পেলে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি ইমরানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। তোষাখানা মামলায় অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের দেওয়া উপহার সরকারি ভান্ডারে জমা না করে সেগুলি বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করেছিলেন তিনি। পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী, বিদেশি উপহার রাষ্ট্রীয় তোষাখানায় জমা রাখা বাধ্যতামূলক।
এই মামলায় আদালত পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে আরও ৭ বছরের সাজা শোনায়। সব মিলিয়ে ইমরান ও বুশরার মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আদালত জানায়, ইমরানের বয়স ও বুশরার নারী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেই তুলনামূলক নমনীয় শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
শুনানির সময় সস্ত্রীক আদালতে উপস্থিত ছিলেন ইমরান। তিনি আগেই অভিযোগগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছিলেন।
২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তোষাখানা মামলায় গ্রেপ্তার হন ইমরান। প্রথমে তাঁকে পাঞ্জাবের অটোক জেলে রাখা হয়, পরে স্থানান্তর করা হয় রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে। গত প্রায় তিন বছর ধরে সেখানেই বন্দি রয়েছেন তিনি।
ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের দাবি, জেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। মেডিকেল রিপোর্টে ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন ধরা পড়েছে, যা গুরুতর সমস্যা। দ্রুত চিকিৎসা না হলে তিনি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন বলেও চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা রয়েছে বলে দাবি পিটিআইয়ের।
দলের অভিযোগ, এত গুরুতর শারীরিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও জেল কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত চিকিৎসা দিচ্ছে না। ইমরানের বিরুদ্ধে বর্তমানে ২০০-র বেশি মামলা ঝুলছে। পিটিআইয়ের দাবি, সবই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।




