নয়াদিল্লি/মুম্বই: ভারতের ব্যাঙ্কিং পরিসরে ঐতিহাসিক বেসরকারিকরণের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে IDBI ব্যাঙ্কে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশীদারিত্ব বিক্রির সিদ্ধান্ত কার্যত চূড়ান্ত করল অর্থমন্ত্রক। সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সবুজ সংকেত মেলায় কানাডার বিনিয়োগকারী সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্স ফিনান্সিয়াল হোল্ডিংস ৫.৫ থেকে ৫.৭ বিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫৩ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে IDBI-র মালিকানা কিনে নেওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল। কেন্দ্র ও এলআইসি মিলে ব্যাঙ্কটির ৬০.৭২ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে ম্যানেজমেন্টের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছেড়ে দিতে চাইছে।
ইকনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গোটা বিলগ্নিকরণ প্রক্রিয়াটি খতিয়ে দেখা হয়। তার আগের দিনই কোর গ্রুপ অফ সেক্রেটারিজ অন ডিসইনভেস্টমেন্ট এবং আন্তঃমন্ত্রক গোষ্ঠীর দু’দফা বৈঠক হয়। সেখানেই ফেয়ারফ্যাক্সের দেওয়া দরকে এগিয়ে রাখার নীতিগত সম্মতি তৈরি হয়। যদিও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর এখনও বাকি, শর্তাবলী ও খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা চলছে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে বর্তমানে IDBI-র ৪৫.৫ শতাংশ এবং এলআইসি-র হাতে ৪৯.২ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। সম্মিলিতভাবে এই ৯৫ শতাংশের মধ্যে ৬০.৭২ শতাংশ অংশীদারিত্বই তাঁরা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেন্দ্র ছাড়বে ৩০.৪৮ শতাংশ, এলআইসি ছাড়বে ৩০.২৪ শতাংশ শেয়ার। IDBI-র জন্য দর হেঁকেছিল দুবাইয়ের এমিরেটস এনবিডিও। কিন্তু তাদের প্রস্তাবিত দাম ফেয়ারফ্যাক্সের তুলনায় অনেকটাই কম থাকায় পিছিয়ে পড়েছে তারা।
ফেয়ারফ্যাক্সের প্রতিষ্ঠাতা ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রেম বৎস, যিনি ‘কানাডার ওয়ারেন বাফে’ নামেও পরিচিত। আর্থিক পরিষেবা, পরিকাঠামো থেকে শুরু করে প্রযুক্তি— সর্বত্রই এই সংস্থার বিনিয়োগ ছড়িয়ে রয়েছে। এর আগে সিএসবি ব্যাঙ্কেও সফল ভাবে বিনিয়োগ করেছিল তারা। IDBI অধিগ্রহণ করতে পারলে ভারতীয় ব্যাঙ্কে কোনও বিদেশি সংস্থার এটাই হবে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেয়ারফ্যাক্সের হাতে গেলে IDBI-র প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামোয় বড় ধরনের বদল আসতে পারে।
প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগেও চরম আর্থিক সঙ্কটে ধুঁকছিল IDBI ব্যাঙ্ক। ২০১৮ সালে বিপুল খেলাপি ঋণের বোঝায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ব্যাঙ্কটিকে ‘তাৎক্ষণিক সংশোধনমূলক পদক্ষেপ’ বা পিসিএ কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই সঙ্কট অনেকটাই কাটিয়ে পুনরুজ্জীবনের পথে হাঁটছে IDBI। এখন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দেশীয় ব্যাঙ্কিং পরিসরে বেসরকারিকরণ ও বিদেশি লগ্নির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছে অর্থনৈতিক মহল।
তবে এখনও পর্যন্ত বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের স্তরেই রয়েছে। চুক্তির শর্তাবলী চূড়ান্ত হলে ভারতীয় ব্যাঙ্কিংয়ে এই প্রথম কোনও বিদেশি সংস্থা এত বড় মাপের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ করতে চলেছে বলেই বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি।
সূত্র:



