রাজ্য রাজনীতিতে রবিবার জুড়ে তীব্র চর্চার কেন্দ্রে ছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর। তাঁর নিরাপত্তারক্ষী এক পুলিশ কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগে হুমায়ুনের ছেলে গোলাম নবি আজাদ ওরফে রবীনকে শক্তিনগর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রবীনকে ছাড়া হলেও, ঘটনায় পিতা–পুত্রের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় FIR দায়ের করেছে পুলিশ।
কী অভিযোগ, কী বলছে পুলিশ
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে হুমায়ুন কবীর ও তাঁর ছেলের নামে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং দু’জনকেই নোটিস দেওয়া হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহে হুমায়ুনের বাড়িতে গিয়েছিল পুলিশ। তবে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ফুটেজ পাওয়া যায়নি। ডিভিআর ও স্টোরেজ সাইবার ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
রবীনের রাজনৈতিক অবস্থান
রবীন এখনও তৃণমূল পরিচালিত বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। যদিও তিনি বাবার নতুন দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-তে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেননি। উল্লেখ্য, হুমায়ুন কবীরকে সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস সাসপেন্ড করেছে এবং তিনি নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করেছেন।
হুমায়ুনের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর বলেন, “দীর্ঘদিন সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়েছি। এখন শাসকদলের বিরুদ্ধেও কথা বলছি। রাজনীতিতে এ ধরনের ছোটখাটো ঘটনা ঘটে। ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এসবের সঙ্গে অভ্যস্ত।”
বিরোধীদের আক্রমণ
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে নিশানা করেছে বিরোধীরা। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যাঁরা শাসকদলের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবহার করা হচ্ছে।”
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-এর বক্তব্য, “এটা বিজেপি–তৃণমূলের রাজনীতির ফল। পক্ষে থাকলে নিরাপত্তা, বিপক্ষে গেলে মামলা।”
তৃণমূলের পাল্টা জবাব
তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “হুমায়ুন কবীর নিজেই বলেছেন, অন-ডিউটি পুলিশকর্মীর গায়ে হাত তোলা হয়েছে। এমন ঘটনায় পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেই।”
তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সিসিটিভি ও ফরেনসিক রিপোর্টই পরবর্তী পদক্ষেপের দিশা নির্ধারণ করবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।



