তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন হুমায়ুন কবিরের জামাই রাইহান আলি, বেয়াই শরিফুল ইসলাম

সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের জামাই রায়হান আলি ও তাঁর বাবা শরিফুল ইসলাম তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন, বিধানসভা ভোটের আগে মুর্শিদাবাদে বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

হুমায়ুন কবিরের জামাই রাইহান আলি তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন—বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে বড়সড় চমক তৈরি করেছে এই খবর। ভরতপুরের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের জামাই রায়হান আলি এবং তাঁর বাবা শরিফুল ইসলাম খুব শিগগিরই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন বলে জানা গিয়েছে। দোল উৎসবের পর কলকাতার তৃণমূল ভবনে রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে শাসকদলের পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত মুর্শিদাবাদের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠনের পথে হাঁটায় পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তৃণমূল থেকে নিলম্বিত হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (JUP) নামে একটি নতুন দল গঠনের ঘোষণা করেছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনের নথিতে একই নামে অন্য একটি রাজনৈতিক দল আগে থেকেই নিবন্ধিত থাকায় সেই নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সূত্রের খবর, দলের নামের আগে ‘আম’ শব্দ যুক্ত করে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP) রাখার চিন্তাভাবনা চলছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই হুমায়ুন কবীরের জামাই ও তাঁর বাবার তৃণমূলে যোগদানের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। রায়হান আলি নিজেই জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করতে চলেছেন এবং তাঁর রাজনৈতিক গন্তব্য হবে তৃণমূল কংগ্রেস।

রাজনৈতিক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে লালগোলা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার দৌড়েও রায়হানের নাম ঘুরছে। যদিও দলীয় নেতৃত্বের তরফে এখনও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।

উল্লেখ্য, প্রায় এক দশক আগে হুমায়ুন কবীরের কন্যা নাজমা সুলতানার সঙ্গে রায়হান আলির বিয়ে হয়। এর আগে হুমায়ুন অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর জামাইকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে তৃণমূলে যোগদানের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি লালগোলা থেকে প্রার্থী করার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।

তবে মঙ্গলবার রায়হানের বক্তব্যে সেই অভিযোগের প্রতিফলন খুব একটা দেখা যায়নি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে তৃণমূলই একমাত্র কার্যকর রাজনৈতিক বিকল্প বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে পারিবারিক সম্পর্কে কোনও প্রভাব পড়বে কি না, সে বিষয়ে হুমায়ুন কবীর বলেছেন, “রাজনীতি আর ব্যক্তিগত জীবন আলাদা বিষয়। এতে পারিবারিক সম্পর্কের কোনও প্রভাব পড়বে না।”

মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকারও জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে কেউ যে কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেন। তাঁর মতে, রায়হান আলি তৃণমূলে যোগ দিলে তা দলের শক্তি আরও বাড়াবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন