বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় চমক। সোমবার দুপুর ১টায় নতুন রাজনৈতিক দলের নাম ও রাজ্য কমিটি ঘোষণা করতে চলেছেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শুধু দল ঘোষণাই নয়, একই সঙ্গে পাঁচটি বিধানসভা আসনে প্রার্থীর নামও প্রকাশ্যে আনবেন তিনি। দল ঘোষণার দিনই প্রচারের রূপরেখা স্পষ্ট করে দেওয়ায়, ভোটের আগেই রাজনৈতিক সমীকরণে নড়াচড়া শুরু হয়েছে।
বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা ঘিরে তৃণমূলের সঙ্গে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন হুমায়ুন। সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁকে বহিষ্কারের কথা জানায় শাসকদলের নেতৃত্ব। সেই মুহূর্ত থেকেই তাঁর রাজনৈতিক হুঙ্কার আরও জোরালো হয়। কথা মতোই সোমবার নিজের নতুন দলের আত্মপ্রকাশ ঘটাতে চলেছেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর নিজেই জানিয়েছেন, সোমবার যে পাঁচটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে, তার মধ্যে চারটি মুর্শিদাবাদ জেলায় এবং একটি পশ্চিম মেদিনীপুরে। মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর গ্রামীণ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবেন তিনি। এখানেই শেষ নয়— ওই দিনই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দলের সভাপতির নামও ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন।
পশ্চিম মেদিনীপুরে কি শুধু একটি আসনেই সীমাবদ্ধ থাকবেন? এই প্রশ্নে হুমায়ুনের সাফ জবাব, “সব আসনেই প্রার্থী দেব। খড়্গপুর সদর-সহ জেলার প্রতিটি বিধানসভা আসনেই আমাদের প্রার্থী থাকবে। তবে ধাপে ধাপে সব জানানো হবে। সোমবার এই পাঁচটি আসন থেকেই শুরু।”
নতুন দলের ঘোষণার খবরে মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনৈতিক অন্দরমহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। শাসকদল তৃণমূলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, “ভারতের সাংবিধানিক কাঠামো মেনে যে কেউ দল গড়তে পারেন, নির্বাচনে লড়তেই পারেন। কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করে বাংলায় সফল হওয়া যাবে না। বাংলার মানুষ ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উন্নয়নের সঙ্গে।”


অন্য দিকে, ডেবরার বিধায়ক ও প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীর জানান, তিনি গোটা ঘটনাপ্রবাহের দিকেই নজর রাখছেন। বিজেপির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সহ-সভাপতি শঙ্কর গুছাইতের বক্তব্য, “বাংলার মানুষ এখন আত্মনির্ভর ভারতের পথে হাঁটতে চান। তবে হুমায়ুন কী ঘোষণা করেন, সেটাও দেখার বিষয়।”
রাজনৈতিক জীবনে কংগ্রেস, তৃণমূল, বিজেপি হয়ে আবার তৃণমূল— একাধিক দল ঘুরে এবার নিজের দল গড়ছেন হুমায়ুন। ২০২১ সালের আগে যেমন ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট’ আত্মপ্রকাশ করেছিল, তেমনই নতুন এই দল কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। আইএসএফ ভাঙড়ের বাইরে বড় সাফল্য পায়নি। সেই অভিজ্ঞতার পর প্রশ্ন উঠছে— ভরতপুরের গণ্ডি পেরিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কি সত্যিই প্রভাব ফেলতে পারবেন হুমায়ুন কবীর? নজর এখন ২০২৬-এর ভোটে।








