বাবরি মসজিদের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরঙ্গ এখনও থামেনি। এর মধ্যেই নিজের নিরাপত্তা বাড়াতে ৮ জন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করেছেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ভিন রাজ্যের নিরাপত্তারক্ষী আনার আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু রাজ্য পুলিশের তরফে কোনও সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।
হুমায়ুন কবীর জানান,
“আমার নিরাপত্তার জন্য ৮ জন প্রাইভেট সিকিউরিটি নিয়োগ করেছি। এখনও পর্যন্ত ৪ জন এসেছে, বাকি ৪ জন শিগগিরই আসবে। সিকিউরিটি এজেন্সি রাজ্যের ডিজি-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কিন্তু কোনও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।”
নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে আরও বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন ভরতপুরের এই বিধায়ক।
“আমার দল ছাড়া কেউ মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবে না”—হুমায়ুনের দাবি
সদ্য সাসপেন্ডেড হওয়া হুমায়ুন কবীর এখন প্রকাশ্যে নিজের নতুন রাজনৈতিক দলের প্রচারে নামছেন। ২২ ডিসেম্বর তিনি নতুন দল ঘোষণা করতে পারেন বলে সূত্রের দাবি। তার আগেই রাজনৈতিক ময়দানে ছুড়লেন সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
তাঁর ভাষায়—
“আমার পার্টি ছাড়া কেউ মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবে না। আমার সমর্থন লাগবেই। আমরা এমন অবস্থায় আছি। ধীরে ধীরে সেটা প্রমাণ করে ছাড়ব। প্রচারেও করব, নির্বাচন কমিটিতেও দেখাবো। যাদের প্রার্থী করব, তালিকা দেখেই সবাই বুঝতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন—
“হুঙ্কার দিচ্ছি না, আমি করে দেখানোর লোক। ২২ ডিসেম্বর আসতে দিন, ১ লক্ষ মানুষের জমায়েত করব।”
নতুন দল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে
রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে—
-
হুমায়ুনের নতুন দল কাদের সঙ্গে জোট করবে?
-
তাঁর দাবি রাজনৈতিকভাবে কতটা বাস্তবসম্মত?
-
তাঁর এলাকায় জমায়েত দেখিয়ে কি তিনি নিজের শক্তি প্রমাণ করতে পারবেন?
বাংলার রাজনীতি যেখানে সংখ্যালঘু ভোট উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে, সেখানে ভরতপুরের এই বিধায়কের বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের পর থেকে তিনি যেভাবে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন, তাতে তাঁর নতুন রাজনৈতিক পদক্ষেপ ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।



