বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের পরই ইউটার্ন হুমায়ুনের, ছাড়ছেন না বিধায়ক পদ

বাবরি মসজিদের শিলান্যাস ঘিরে বিতর্কের পরেও ভরতপুরের বিধায়ক পদ না ছাড়ার সিদ্ধান্ত হুমায়ুন কবীরের। জনগণের চাপে ইউটার্ন দাবি প্রাক্তন তৃণমূল নেতার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের পর মাত্র ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোচড়। বহু বিতর্কের মধ্যেই নিজের এলাকায় ‘বাবরি’ মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আর তার সঙ্গে সঙ্গেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে সেই নাম—হুমায়ুন কবীর। এবার বাবরি শিলান্যাসের পরই ইউটার্ন হুমায়ুনের ঘটনায় জমে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা।

গত ১৭ নভেম্বরই তিনি জানিয়েছিলেন, দলীয় মতানৈক্য ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ভরতপুরের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। নিয়ম মেনে স্পিকারের কাছে চিঠিও জমা দেবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু রবিবার রেজিনগরে ‘বাবরি’ মসজিদের শিলান্যাসস্থল পরিদর্শনের পর আচমকাই নিজের অবস্থান বদলে ফেললেন। বললেন, “ভরতপুরবাসী চান আমি বিধায়ক পদে থাকি। তাঁদের স্বার্থেই ইস্তফা দিচ্ছি না।”

অর্থাৎ, বাবরি শিলান্যাসের পরই ইউটার্ন হুমায়ুনের এই ঘোষণায় ঘনীভূত হলো রাজনৈতিক জল্পনা। তাঁর যুক্তি, সাধারণ মানুষের নানা কাজে তাঁদের বিধায়কের প্রয়োজন হয়। তাই জনগণের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি দায়িত্বে থেকে কাজ চালিয়ে যেতে চান। তাঁর দাবি, “মানুষই আমার শক্তি। তাঁদের কথা ভেবে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি।”

বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের পরই ইউটার্ন হুমায়ুনের, ছাড়ছেন না বিধায়ক পদ

কিন্তু ঘটনার পটপরিবর্তন একদিনে হয়নি। ৩ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘোষণা করেন হুমায়ুন। আর সেই ঘটনার পরই তৃণমূল তাঁকে দলবিরোধী কাজের জেরে আজীবন সাসপেন্ড করে। ছয় দিন পর সংহতি দিবসে বেলডাঙায় আনুষ্ঠানিকভাবে শিলান্যাস করেন তিনি। এই পদক্ষেপেই জেলা থেকে রাজ্য—সব মহলে শুরু হয় প্রবল চর্চা।

বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের পরই ইউটার্ন হুমায়ুনের, ছাড়ছেন না বিধায়ক পদ
বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের পরই ইউটার্ন হুমায়ুনের, ছাড়ছেন না বিধায়ক পদ

এই অবস্থাতেই যখন দল-বহিষ্কারের ধাক্কা সামলাচ্ছিলেন, তখনই তাঁর ঘোষণা—বাবরি শিলান্যাসের পরই ইউটার্ন হুমায়ুনের, তিনি আর রাজ্য বিধানসভার সদস্যপদ ছাড়ছেন না। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের শাসকদলের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।

এদিকে, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান চলাকালীন সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন হুমায়ুন। রবিবার তিনি ঘোষণা করেন, “২৬-এর আগে মুর্শিদাবাদে লক্ষ কণ্ঠে কোরানপাঠ হবে।” তাঁর মন্তব্যে আরও একবার তীব্র বিতর্কের আগুন জ্বলে ওঠে।

তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ তাঁর এই কার্যকলাপকে “বিষাক্ত সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা” বলে আখ্যা দেন। তাঁর মন্তব্য, “গীতাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। বিরোধিতা করি না। কিন্তু ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা ভুল। একইভাবে হুমায়ুন কবীর বাবরি মসজিদের নামে সাম্প্রদায়িকীকরণের চেষ্টা করেছেন, দলকে কলুষিত করেছেন—এটা নিন্দনীয়।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাবরি শিলান্যাসের পরই ইউটার্ন হুমায়ুনের এই ঘোষণা আগামী নির্বাচনে ভরতপুরের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। দলবিরোধী ভূমিকায় কঠোর অবস্থানে তৃণমূল, আবার তাঁর জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে স্থানীয় মানুষ তাঁকে সমর্থন দিচ্ছেন—এমন পরিস্থিতিতে সামনে বহু রাজনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হতে পারে।

হুমায়ুনের ভবিষ্যত রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তিনি নতুন কোনও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দেবেন কিনা—এগুলি এখন বড় প্রশ্ন। কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার—বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের পরই বাড়তি আলোতে উঠে এসেছেন হুমায়ুন কবীর। আর তাঁর এই ইউটার্ন আগামী দিনেও রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে নিশ্চয়ই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত