নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রতিবদনের শিরোনাম পড়ে অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন জড়িয়ে ধরার কথা? প্রিয়জনকে কাছাকাছি পাওয়ার বাসনা সবার মনেই বিদ্যমান। আর ভালোবাসার মানুষকে একটু আধটু জড়িয়ে না ধরলে সে ভালোবাসায় জৌলুসতা বাড়ে না! তবে শুধু প্রেম নিবেদনের জন্যই নয় জানেন কী এই জড়ানোর পদ্ধতির একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে।
আরও পড়ুনঃ জীবনে আপসোস করতে না চাইলে, বয়স ৩০ হওয়ার আগেই করুন এই ৭টি কাজ
একটু ভাবুন তো! খুব বিপদের সময়ে মা এসে যখন জড়িয়ে ধরেন, কতটা স্বস্তি লাগে! প্রিয় মানুষটি যখন ভালোবেসে বুকে টেনে নেয়, কতটা নিরাপদ অনুভব করেন? কিংবা মনে করুন বন্ধুদের শক্ত সেই আলিঙ্গন! সন্তান কিংবা ছোট ভাইবোনের আদুরে সেই গলা জড়িয়ে ধরা। আলিঙ্গন করলে বৃদ্ধি পায় মানসিক শান্তি। সেই সঙ্গে কমে যায় অস্থিরতা।

জেনে নিন প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরার আরও উপকারিতা-
কাউকে ভালোবেসে জড়িয়ে ধরার আছে অনেক উপকারিতা। ভালোবেসে কাউকে আলিঙ্গন করলে নিরাপত্তার অনুভূতি হয়। সেই সঙ্গে বাড়ে বিশ্বাস ও আস্থা। প্রিয়জনকে আলতো করে ছুঁতে চাওয়ার ইচ্ছাই আপনাকে আরাম দেবে, রাখবে সুখে।
আমরা যখন কখনো কারোকে জড়িয়ে ধরি তখন অক্সিটসিন হরমোন নিঃসারণ হয়। এই হরমোন আমাদেরকে মানসিকভাবে সুখি অনুভব করতে সাহায্য করে। এই হরমোন সামাজিক বন্ধন বাড়াতেও সাহায্য করে। কেন না নিউরো-পেপটাইড অক্সিটক্সিন হরমোন আমাদের মধ্যে সততা, অনুরাগ বাড়িয়ে তোলে। প্রেমের সম্পর্ককে মজবুত করতে যা একান্তই প্রয়োজন।

হাগ করা বা জড়ানো আপনার মনই নয় শরীরকেও ভাল রাখতে সাহায্য করে। যখন কেউ আপনাকে জড়ায় তখন ত্বকের মধ্যে থাকা পাসিনিয়ান কর্পাসেলস নামে প্রেসার রিসেপটর মস্তিষ্কে সংকেত পাঠিয়ে রক্তচাপ কমিয়ে দেয়। যা হার্টের ভাল থাকার পক্ষে খুবই জরুরি।
প্রিয়জনের জড়ানো আপনাকে মানসিকভাবে ভাল রাখে। আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলে অকারণে ভয় পাওয়া কমিয়ে দেয়। প্রিয় মানুষদের জীবনে আপনার যে গুরুত্বপূর্ণ অস্তিত্ব আছে তা বোঝায়।
হার্ট ভালো রাখতে সুযোগ পেলেই জড়িয়ে ধরুন প্রিয়জনকে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় প্রকাশ, বয়সের সঙ্গে একাকীত্ব বাড়তে থাকে, যা স্ট্রেস বাড়িয়ে তোলে। আপনার একটা ছোট্ট হাগই আপনার প্রিয় মানুষটার একাকীত্ব কমিয়ে দিয়ে আপনাদের সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করে তুলবে।
যখন আমরা কাউকে জড়িয়ে ধরি তখন স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোল নিঃসারিত হয়। এই কর্টিসোল হরমোন আমাদের জীবনে স্ট্রেস এবং মানসিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে। তাই যত বেশি আমরা জড়িয়ে ধরি তত কমে যায় কর্টিসোলের পরিমান। মানসিকভাবে শান্ত থাকতে সাহায্য করে ছোট্ট হাগ।



