নজরবন্দি ব্যুরো: রেশন দুর্নীতিতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর মোড়। কখনও আচমকা নেতা-মন্ত্রীদের বাড়িতে তল্লাশি, আবার কখনও দুর্নীতির দায়ে মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠকে গ্রেফতার করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এহেন পরিস্থিতিতে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে ধৃত মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ বাকিবুর রহমানের বিপুল সম্পত্তির হদিস পেয়েছে ইডি। কেন্দ্রীয় তন্দন্তকারী সংস্থার সূত্রের খবর, ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে ইডি। তার মধ্যে রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট, হোটেল, পানশালা এবং রাইস মিলও।


অন্যদিকে, কীভাবে আটা নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে, তার একটি ধারণা পেয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির আধিকারিকরা। বৃহস্পতিবারে যেখানে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিল ইডি, ঠিক সেই সময় বাকিবুরদের জেরার নেপথ্যেও সেই নথির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা। যদিওবা জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতেই অভিযুক্তদের উত্তর নিয়ে ধন্দে পড়েছিল ইডি।

তবে কি ভাবে চলত এই দুর্নীতি? সূত্রের খবর, চাল এবং আটা কলের মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাচ্ছে, যে প্রতি ১ কেজি আটার দামে অন্তত ২০০ গ্রাম কম আটা মেশানো হত। আবার কখনও কখনও আটার পরিমাণ ৪০০ গ্রামও হত। আর এই গরমিলের কথা জানত দু’পক্ষই। অর্থাৎ পুরোটাই চলত মিল মালিক এবং সরকারি সরবরাহকারীদের বোঝাপড়ায়। শুধু তাই নয়, মিল মালিকেরা সরকারি অর্থ মিলিয়ে নিতেন কড়ায়-গণ্ডায়। কিন্তু তার বিনিময়ে সরবরাহকৃত রেশনের হিসাব মিলত না। তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ইডির হাতে।



প্রসঙ্গত, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডি। খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়িতেও যায় তারা। এরপরই খোঁজ মেলে বাকিবুর রহমানের। চালকল ও আটাকলের সন্ধান পায় তাঁরা। এরপরই বাকিবুরের কৈখালির বাড়িতে হানা দেয় তদন্তকারীদের একটি দল। টানা দুদিনেরও বেশি সময় প্রায় ৫৪ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন তল্লাশি চলে। ইডি সূত্রে খবর, বাকিবুরের হাত ধরে রেশন দুর্নীতির প্রচুর কালো টাকা সাদা হয়েছে। এমনকি নার্সিংহোম শপিংমলেও সে টাকা গিয়েছে। যদিও বাকিবুর দাবি করেন, “আমি একজন ব্যবসায়ী। আমি কোনও দুর্নীতি করিনি।”
কীভাবে রেশনে চলত দুর্নীতি, ইডির জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য








