দু’দিনের উৎকণ্ঠা, অজস্র খোঁজাখুঁজি আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল শনিবার ভোরে। দময়ন্তী সেন নিখোঁজ কাণ্ডে শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে একটি অচেনা ফোনকল। সেই ফোনের সূত্র ধরেই হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট থেকে মেয়েকে খুঁজে পান বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন। পরে দময়ন্তীকে নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশের কাছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের পড়াশোনা ও খেলাধুলার চাপ থেকেই মানসিক অস্থিরতার মধ্যে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল কিশোরী।
ভোর ৫টার ফোনেই বদলে যায় সব
ধ্রুবজ্যোতি সেন জানান, শনিবার ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ একটি অচেনা নম্বর থেকে তাঁর ফোন আসে।
ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি জানান, তাঁর স্ত্রী রামকৃষ্ণপুর ঘাটে দময়ন্তীকে দেখতে পেয়েছেন। পরে অন্য একটি নম্বর থেকে যোগাযোগ করে তিনি ধ্রুবজ্যোতিকে দ্রুত সেখানে পৌঁছানোর অনুরোধ করেন।
ঘাটের শেষ প্রান্তে বসেছিল দময়ন্তী
ফোন পাওয়ার পর আর সময় নষ্ট করেননি দময়ন্তীর বাবা। প্রথমে হাওড়া স্টেশন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে তিনি রামকৃষ্ণপুর ঘাটের দিকে যান।
ধ্রুবজ্যোতির কথায়, প্রথমে মনে হয়েছিল সেখানে মেয়েকে পাওয়া যাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘাটের একেবারে শেষ প্রান্তে একটি কোণায় বসে থাকতে দেখেন দময়ন্তীকে।
তিনি জানান, মেয়ের কাছে গিয়ে ডাকতেই দময়ন্তী শান্তভাবে উত্তর দেয়। এরপর তিনি জানতে চান, কেন এভাবে বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছিল। জবাবে দময়ন্তী শুধু বলেন, “আমায় বাড়ি নিয়ে চলো।”
পুলিশের ভূমিকায় কৃতজ্ঞ পরিবার
মেয়েকে ফিরে পাওয়ার পর হাওড়া সিটি পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেন ধ্রুবজ্যোতি সেন।
তিনি জানান, নিখোঁজের পর থেকেই গোয়েন্দা বিভাগ নিয়মিত বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ তাঁর কাছে পাঠাচ্ছিল। সেই ফুটেজ দেখে দময়ন্তীর চলাফেরার গতিপথ সম্পর্কে ধারাবাহিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল।
ধ্রুবজ্যোতির কথায়, পুলিশের এই নজরদারির ফলে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তদন্ত সঠিক দিকেই এগোচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই ভোরের ফোনকল তাঁদের মেয়ের কাছে পৌঁছে দেয়।
কেন বাড়ি ছেড়েছিল দময়ন্তী?
পরিবারের দাবি, পড়াশোনা, শুটিংয়ের অনুশীলন এবং নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পূরণের চাপ একসঙ্গে সামলাতে পারছিল না দময়ন্তী।
ক্রমশ মানসিক চাপে ভুগতে শুরু করে সে এবং নিজেকে ব্যর্থ মনে করতে থাকে। সেই মানসিক অস্থিরতা থেকেই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।
উল্লেখ্য, দময়ন্তীর বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে পরিবারের বক্তব্য এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে যা উঠে এসেছে, তা এখনও তদন্তাধীন। এ বিষয়ে পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি।
এখন দময়ন্তী নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরেছে। তবে এই ঘটনা আবারও কিশোর-কিশোরীদের উপর পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার মানসিক চাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



