বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে সরাসরি গণহত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠল। রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক মামলার শুনানিতে প্রধান সরকারি আইনজীবী তাজুল ইসলাম জানান, “২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা তাঁর দলের কর্মী, পুলিশ ও সরকারি আধিকারিকদের গণহত্যার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন।”
এই মামলার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—শুনানির লাইভ সম্প্রচার। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। লাইভে ভিডিও ও অডিও ক্লিপ পেশ করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রমাণ তুলে ধরেন প্রসিকিউটর।


কী অভিযোগ পেশ হল?
২০২৪ সালের কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রায় ১৫০০ জনের মৃত্যু ও ২৫,০০০-এর বেশি আহতের ঘটনায় শেখ হাসিনাকে মূল অভিযুক্ত হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসিনা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংগঠিত করেন।


তাঁর সরকারে থাকা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন-এর বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ।
প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন,“শেখ হাসিনা পরিকল্পিতভাবে ছাত্র আন্দোলন দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রাণঘাতী হামলার নির্দেশ দেন। ট্রাইবুনালে অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য এজেন্সির রিপোর্ট থেকে এই প্রমাণ পাওয়া গেছে।”
আন্তর্জাতিক সম্প্রচারে নজিরবিহীন উপস্থিতি
রবিবার দুপুর ১২টা থেকে দ্য হেগে এই মামলার শুনানি শুরু হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পাশাপাশি ইউটিউব ও একাধিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে শুনানির লাইভ সম্প্রচার হয়। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যেখানে একটি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক ফোরামে মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হচ্ছেন।









