নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিক কেন্দ্র, এই আর্জি নিজেদের হয়ে সব রাজ্যই কেন্দ্রকে জানিয়েছে। এর আগেও কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন বলেছিলেন, টানা এক বছরের করোনার প্রবাহে দেশের সব রাজ্যেরই অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে, এই পরিস্থিতিতে রাজ্য গুলিকে বিনামূল্যে টিকা দিক কেন্দ্র। একই দাবী করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
আরও পড়ুনঃ মেয়ো রোড থেকে লালবাজার সেন্ট্রাল লক আপ! পরে জামিনে মুক্ত অগ্নিমিত্রা-রূপা
কেন্দ্র রাজি না হওয়ায়, কেরল-বাংলা এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন নিজেদের রাজ্যবাসীকে ফ্রিতে ভ্যাকসিন দেবেন তাঁরা। তবে ২রা মে নির্বাচন জিতে মমতা জানিয়েছিলেন এই মুহুর্তে তাঁর প্রথম কাজ কোভিড নিয়ন্ত্রণ করা। তার সাথেই জানিয়েছিলেন কেন্দ্রের কাছে আবেদন করবেন সব রাজ্যকেই ফ্রিতে টিকা দানের জন্য। এমনিতেও টিকার কেন্দ্র এবং রাজ্যের পৃথক পৃথক মূল্যের কারণে আদালত থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই তুলোধনা করেছে কেন্দ্রের।
এর মধ্যেই দেশের এই জটিল পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে টিকার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বাংলা। বাংলার সরকারের পক্ষ থেকে দাবী জানানো হয়েছে ‘দেশে টিকার জোগান বাড়াতে কেন্দ্রকে শীঘ্র পদক্ষেপ করতে হবে। শুধু তাই নয়, সব রাজ্যে বিনামূল্যে টিকা পৌঁছে দিতে হবে’। এ দিন শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার থেকেই টিকাকরণ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি শুরু হবে।
গোটা দেশের মতোই এরাজ্যেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। আগামী ১৫ দিন এই সংক্রমণ প্রচণ্ড হারে বাড়তে পারে বলে গতকালই রাজ্যবাসীকে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমন অবস্থায় গোটা দেশের মত রাজ্যেও অক্সিজেনের আকাল দেখা দিতে পারে এই আশঙ্কায় এবার অতিরিক্ত অক্সিজেন চেয়ে আজই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুধু তাই নয় চিঠির উপর পেন দিয়ে ‘ভেরি আর্জেন্ট’ ও লিখে দিয়েছেন তিনি। চিঠিতে অক্সিজেনের যাবতীয় হিসেবনিকেশের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। এই মুহূর্তে রাজ্যে প্রতিদিন ৪৭০ মেট্রিক টন অক্সিজেন প্রয়োজন। আগামী ৭, ৮ দিনের মধ্যে তার চাহিদা পৌঁছতে পারে ৫৫০ মেট্রিক টনে। তাই সেই বাড়তি অক্সিজেন সরবরাহ করতে হবে কেন্দ্রকেই। চিঠিতে এমনই দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।



