শেয়ারবাজারে অস্থিরতা চললেও বিশ্বের অন্যতম বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী গোল্ডম্যান স্যাকস (Goldman Sachs)-এর ভারতীয় পোর্টফোলিওর কিছু স্টক নজর কেড়েছে। চলতি ক্যালেন্ডার বছর (CY26)-এ সংস্থার মোট ভারতীয় ইক্যুইটি পোর্টফোলিওর মূল্য কিছুটা কমলেও, কয়েকটি শেয়ার বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্য রিটার্ন দিয়েছে। ২৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৬টি স্টক নিয়ে তৈরি এই পোর্টফোলিওর মধ্যে ৮টি শেয়ার ২০% থেকে ৮৪% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সবচেয়ে বেশি রিটার্ন দিয়েছে GNG Electronics। বছরের শুরুতে প্রায় ৩০৮ টাকা দামে থাকা শেয়ারটি ৫৬৬ টাকায় পৌঁছেছে, অর্থাৎ প্রায় ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি। বর্তমানে সংস্থাটিতে গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রায় ১.৯০ শতাংশ অংশীদারি রয়েছে এবং বিনিয়োগের মূল্য প্রায় ১২২ কোটি টাকা।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে TD Power Systems। পাওয়ার ইকুইপমেন্ট খাতের এই সংস্থার শেয়ার ৭০২ টাকা থেকে বেড়ে ১,২৫৫ টাকায় পৌঁছে প্রায় ৭৯ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে। এখানে গোল্ডম্যান স্যাকসের ২.৪০ শতাংশ অংশীদারি রয়েছে।
তৃতীয় সর্বোচ্চ পারফর্মার Inox India। সংস্থার শেয়ারদর ১,১৩৪ টাকা থেকে বেড়ে ১,৮৭৩ টাকায় পৌঁছে প্রায় ৬৫ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের হাতে রয়েছে সংস্থার ২.১৬ শতাংশ শেয়ার।
ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের Sai Life Sciences-ও উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। চলতি বছরে প্রায় ৩৪ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে এই স্টক। পাশাপাশি Pearl Global Industries এবং Navin Fluorine International— দুই সংস্থাই প্রায় ২৯ শতাংশ করে রিটার্ন দিয়েছে। বিশেষত স্পেশালিটি কেমিক্যালস (Specialty Chemicals) সেক্টরে Navin Fluorine-এ সংস্থার আস্থা এখনও বজায় রয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছে SJS Enterprises, যেখানে গোল্ডম্যান স্যাকসের অংশীদারি প্রায় ৩.৯৭ শতাংশ। শেয়ারটি চলতি বছরে প্রায় ২৬ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে। অন্যদিকে Amber Enterprises India প্রায় ২০ শতাংশ রিটার্ন দিয়ে তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছে।
মার্চ ২০২৬ ত্রৈমাসিকে গোল্ডম্যান স্যাকস নতুন করে JK Lakshmi Cement-এ বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে সংস্থাটিতে তাদের প্রায় ২.৭০ শতাংশ অংশীদারি রয়েছে। যদিও চলতি বছরে এই শেয়ারের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ কমেছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার উপর ভরসা রেখে বিনিয়োগ করেছে সংস্থাটি।
তবে গোল্ডম্যান স্যাকসের সব বিনিয়োগ যে সফল হয়েছে, এমন নয়। Midwest, Eureka Forbes এবং Cello World-এর মতো কয়েকটি শেয়ারে যথাক্রমে প্রায় ২৫%, ২৬% এবং ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পতন হয়েছে। অর্থাৎ বড় বিনিয়োগকারী সংস্থার পোর্টফোলিওতেও লাভ-লোকসান দুটোই থাকে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও থেকে বাজারের প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে শুধুমাত্র কোনও বিদেশি সংস্থা কোনও শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে বলেই সেই শেয়ার কেনা উচিত নয়। বিনিয়োগের আগে সংস্থার আর্থিক স্বাস্থ্য, ব্যবসার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, মূল্যায়ন এবং নিজের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বিবেচনা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।






