বুলিয়ন বাজারে কার্যত ভূমিকম্প। ১৯৮০–র দশকের পর এই প্রথম এক দিনে এত বড় পতন দেখল সোনা ও রুপো—যা বিনিয়োগকারী থেকে সাধারণ ক্রেতা, সবাইকে চমকে দিয়েছে। রুপোর দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেল, আর সোনাও রেকর্ড উচ্চতা থেকে দ্রুত নেমে এল। প্রশ্ন একটাই—এই ঐতিহাসিক পতনে ঠিক কতটা সস্তা হল দুই মূল্যবান ধাতু?
ভারতীয় বাজারে রুপোর দাম প্রতি কেজিতে নেমে এসেছে ৩ লক্ষ টাকার নীচে। সর্বশেষ দর অনুযায়ী, রুপো বিকোচ্ছে প্রায় ₹২,৯১,৯২২ প্রতি কেজি। বৃহস্পতিবার যেখানে রুপো প্রায় ₹৪ লক্ষ ছুঁয়েছিল, সেখান থেকে এক দিনের ব্যবধানে এই ধস। দেশের ডেরিভেটিভ বাজার MCX–এও একই ছবি—শুক্রবার রুপোর দাম প্রায় ₹২,৯১,০০০ প্রতি কেজিতে নেমে যায়।
সোনার বাজারেও একই রকম অস্থিরতা। ভারতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে নেমে এসেছে প্রায় ₹১,৫০,৮৪৯–এ (GST ও মেকিং চার্জ বাদ দিয়ে)। অর্থাৎ রেকর্ড উচ্চতা থেকে এক ধাক্কায় কয়েক হাজার টাকা কমেছে হলুদ ধাতুর দাম।
আন্তর্জাতিক বাজারেও বড় পতন
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম এক দিনে ৫.৩১ শতাংশ বা প্রায় $২৮৫ কমে নেমে আসে $৫,০৮৭.৭৩ প্রতি আউন্সে। দিনের মধ্যেই আরও বড় ধস দেখা যায়—এক পর্যায়ে সোনা $৪,৯৪৫.২৬–এ পৌঁছয়, যা প্রায় ৭.৯২ শতাংশ পতন। উল্লেখযোগ্য ভাবে, বৃহস্পতিবারই সোনা নতুন সর্বোচ্চ $৫,৫৯৫.০২ ছুঁয়েছিল।
রুপোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দাম ১২ শতাংশের বেশি পড়ে গিয়ে নেমে আসে $১০১.৪৭ প্রতি আউন্সে। দিনের মধ্যে সর্বাধিক পতন ছিল প্রায় ১৭.৫ শতাংশ, যখন দাম নেমে গিয়েছিল $৯৫.২৬–এ। অথচ আগের দিনই রুপো উঠেছিল রেকর্ড $১২১.৪৫ প্রতি আউন্সে।
কেন এই ধস?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, টানা রেকর্ড বৃদ্ধির পর প্রফিট বুকিং–ই এই বড় পতনের অন্যতম কারণ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার, ডলার সূচকের ওঠানামা এবং জল্পনাভিত্তিক লেনদেনও দাম পড়ার পিছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে।
ভারতে সোনার দাম ঠিক হয় কীভাবে?
ভারতে সোনা ও রুপোর দাম মূলত নির্ভর করে—
-
আন্তর্জাতিক বাজারের দর
-
আমদানি শুল্ক
-
কর ও GST
-
ডলার–রুপি বিনিময় হার
এই সব উপাদান মিলিয়েই প্রতিদিন দেশের বুলিয়ন বাজারে দাম নির্ধারিত হয়।
সব মিলিয়ে, ৪৬ বছরে নজিরবিহীন এই পতন বিনিয়োগকারীদের যেমন সতর্ক করছে, তেমনই গয়না কেনার অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের জন্য খুলে দিয়েছে নতুন সুযোগের জানলা।



