ভারতে সপ্তাহের প্রথম দিনেই আবার চমক দিল সোনার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের ওঠানামা, ডলারের শক্তি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দেশীয় বাজারে বাড়তি চাহিদা—সব মিলিয়ে সোমবার সকালে বাজার খোলার পর থেকেই স্বর্ণের দরে নতুন পরিবর্তন দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ ক্রেতাদের বড় প্রশ্ন—আজ ১ গ্রামের সোনার দাম বাড়ল, নাকি কমল?
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের স্বর্ণবাজারে যেভাবে লাগাতার ওঠানামা চলছে, তাতে অনেকেই প্রতিদিনের হালনাগাদ দামের দিকে নজর রাখছেন। বিশেষ করে ভারতীয় বাজারে আন্তর্জাতিক ডলারের দামের সামান্য পরিবর্তনও সোনার দরে বড় প্রভাব ফেলছে। এ দিনও ব্যতিক্রম নয়।
সপ্তাহের শুরুতেই সোনার দামে বড় পরিবর্তন
ভারতীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মতে, গোল্ড ফিউচার মার্কেটে সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থানেই সোমবার সোনার দাম কিছুটা উপরে ঠেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা সোনা ধরতে চান, ফলে স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতাও দেখা যায়। সেই একই ছবি দেখা গেল আজও।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায় উঠে আসছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতি। সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হলেই বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝোঁকে। এতে চাহিদা বাড়ে, আর সঙ্গে সঙ্গে দামও দোল খেতে থাকে। বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এবং বাজারের আশঙ্কাই সোনাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
ভারতীয় বাজারে এই সময় চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে। বিয়ের মরশুম ও উৎসবের সময় ঘনিয়ে আসলে ভারতীয় পরিবারে সোনা কেনার প্রবণতা বাড়ে, যা বাজারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই সাংস্কৃতিক বাস্তবতাও সোমবারের দরের পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার দাম যদি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তাহলে ক্রেতাদের এখনই কেনা লাভজনক হতে পারে। তবে হঠাৎ যদি বড় লাফ দেখা যায়, তাহলে কিছুটা অপেক্ষা করে পরিস্থিতি বোঝার পর কেনা বুদ্ধিমানের কাজ। দীর্ঘমেয়াদে যারা বিনিয়োগ করতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রতিদিনের সামান্য ওঠানামা বড় বিষয় নয় বলে মত দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।
এখন দেখা যাক সোমবারের সর্বশেষ দর কত ছিল।
আজকের হিসাবে ২২ ক্যারেট সোনার দাম হয়েছে ১২,১৮৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম দাঁড়িয়েছে ১০,০০৫ টাকা। পাশাপাশি, ১ কেজি রুপোর দাম ১,৭৮,৭৯৩ টাকা। খুচরো বাজারে সোনা বা রুপো কেনার ক্ষেত্রে এই দামের সঙ্গে আরও ৩ শতাংশ GST যোগ হবে।
গত কয়েক বছরে স্বর্ণের দামে ধারাবাহিক উত্থান বিনিয়োগকারীদের আচরণে বড় পরিবর্তন এনেছে। শেয়ারবাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডের পাশাপাশি অনেকে এখন সোনাকেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছেন। স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটি (SSBC)-র তথ্য বলছে, ভবিষ্যতেও সোনার চাহিদা আরও বাড়তে পারে।
সোমবারের দামের পরিবর্তন দেখেই বোঝা যাচ্ছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে স্বর্ণবাজারের এই ওঠানামা আরও কিছুদিন চলতেই পারে। তাই যে-ই সোনা কেনার পরিকল্পনা করুন না কেন, প্রতিদিনের আপডেট জানা এখন অত্যন্ত জরুরি।



