সোনা কি আদৌ একটু নামল? উত্তর—না, বরং উল্টো। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনার দাম। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দামে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাবাজারের টালমাটাল পরিস্থিতি এবং সুদের হার নিয়ে ধোঁয়াশা—সব মিলিয়ে সোনার বাজারে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
বাজার সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ১ আউন্সে ৫,২০০ ডলার ছাড়িয়েছে—যা ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে ফের সোনার দিকেই ঝুঁকছেন। ফলে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও লাগামছাড়া হচ্ছে।
দেশীয় বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে। বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সোনাকে ‘সেফ হ্যাভেন’ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। পাশাপাশি ডলারের মানের ওঠানামা এবং ভবিষ্যৎ সুদনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তাও সোনার দামে চাপ বাড়াচ্ছে।
তাহলে আজ, বুধবার ২৮ জানুয়ারি, দেশের বাজারে সোনার দর কত?
বাজার দর অনুযায়ী—
-
২২ ক্যারেট সোনা: প্রতি ১০ গ্রাম ১৫,৫২৫ টাকা
-
১৮ ক্যারেট সোনা: প্রতি ১০ গ্রাম ১২,৭৪৫ টাকা
-
রুপো: প্রতি কেজি ৩,৭০,৬৮০ টাকা
উল্লেখ্য, গয়না কেনার ক্ষেত্রে এই দামের সঙ্গে গয়না তৈরির খরচ এবং অতিরিক্ত ৩ শতাংশ জিএসটি যোগ হবে। ফলে শহরভেদে ও দোকানভেদে চূড়ান্ত দামে কিছুটা তারতম্য হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন—সোনার দাম কি সত্যিই ভবিষ্যতে প্রতি ১০ গ্রামে ২ লক্ষ টাকা ছুঁতে পারে? বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, স্বল্পমেয়াদে সেই সম্ভাবনা কম হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বাড়লে, ডলার দুর্বল থাকলে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সোনা কেনা অব্যাহত রাখলে আগামী কয়েক বছরে বড় রেকর্ড গড়তে পারে এই হলুদ ধাতু।
তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—এখনই আতঙ্কে পড়ে এককালীন বিপুল অঙ্কের সোনা কেনা ঠিক নয়। ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের। গয়নার বদলে গোল্ড ইটিএফ, সোভেরেন গোল্ড বন্ড বা ডিজিটাল গোল্ডে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি তুলনামূলক ভাবে কম হতে পারে।
গত কয়েক বছরে যেভাবে সোনার দাম লাগাতার বেড়েছে, তাতে অনেকেই অন্যান্য বিনিয়োগের পাশাপাশি সোনাকেও পোর্টফোলিওর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরে রাখছেন। বাজারের এই ঊর্ধ্বগতিতে আগামী দিনে সোনার দামে আরও চমক অপেক্ষা করছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।



