একসময় আকাশছোঁয়া দামে ছুটে চলা সোনা হঠাৎই নামতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে বড়সড় পতনে বিভ্রান্ত ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা। বিয়ের মরশুমে অনেকেই বুঝতে পারছেন না—এখনই সোনা কিনবেন, নাকি আরও কমার অপেক্ষা করবেন? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দামের এই ওঠানামার পেছনে রয়েছে একাধিক বৈশ্বিক কারণ, আর সেই কারণেই ভবিষ্যতে আরও পতনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সম্প্রতি সোনার দাম প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকেই বড়সড় সংশোধন শুরু হয়। ফেব্রুয়ারির শুরুতে দাম নেমে আসে প্রায় ১ লাখ ৩৫-৪০ হাজার টাকার ঘরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন এখনও থামেনি, আরও কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর অন্যতম কারণ মার্কিন অর্থনীতির শক্তিশালী হওয়া। মার্কিন প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি ও শুল্ক-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জেরে ডলার শক্তিশালী হয়েছে। ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত সোনার দাম চাপে থাকে, কারণ বিনিয়োগকারীরা তখন সোনা ছেড়ে অন্য সম্পদে ঝুঁকে পড়েন। ফলে চাহিদা কমে গিয়ে সোনার দামও নিম্নমুখী হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন দেশের সংঘাতের কারণে সোনা ছিল নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম। সেই কারণেই দামও দ্রুত বেড়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী সোনা থেকে টাকা তুলে শেয়ার বাজারে ফিরছেন। এই প্রফিট বুকিংয়ের চাপেই দাম কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এখন প্রশ্ন, সোনার দাম কি সত্যিই ১০ গ্রামে ৭০ হাজার টাকায় নেমে আসতে পারে? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত পতনের ধারা দেখেই এমন সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে ভারতেও তার প্রভাব পড়বে।
একইসঙ্গে ডলারের তুলনায় টাকার মান শক্তিশালী হলে সোনা আমদানির খরচ কমে যায়, যা দামের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বড় পতন রাতারাতি হবে না। ধাপে ধাপে দাম কমতে পারে, আবার মাঝেমধ্যে বাড়তেও পারে।
বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী আজ, হলমার্ক ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে প্রায় ১,৪৭,১০০ টাকা। ২৪ ক্যারেট পাকা সোনার দাম ১০ গ্রামে প্রায় ১,৫৪,৭৫০ টাকা এবং সোনার বাটের দাম প্রায় ১,৫৪,০০০ টাকা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হঠাৎ দাম কমেছে দেখে একবারে বেশি পরিমাণে সোনা কেনা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং ধাপে ধাপে, অল্প অল্প করে সোনা কেনাই নিরাপদ কৌশল। এতে দাম আরও কমলে গড় ক্রয়মূল্য কমানো সম্ভব হবে এবং ক্ষতির ঝুঁকিও কম থাকবে।



