২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সোনার দাম বড়সড়ভাবে কমতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদরা। ইতিমধ্যেই মার্কেট অ্যানালিস্টদের একাংশ ‘Gold Price Correction’ নিয়ে সতর্ক করেছেন। ভারতে সোনা দীর্ঘদিন ধরেই বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ ভরসা হলেও, নতুন বছরে সেই বাজারেই নাকি বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
নতুন বছরের প্রথম মাসেই কেন নেমে আসতে পারে সোনার দাম? অর্থনীতিবিদদের মতে, এর পিছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক কারণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার কমানো থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী ডলার শক্তিশালী হওয়া—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারি Gold Market-এর জন্য বেশ সংবেদনশীল বলে মনে করা হচ্ছে।


সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে Federal Reserve–এর সিদ্ধান্ত। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে সুদের হার না কমিয়ে বরং ‘হোল্ড’ করে রাখে, তাহলে ডলার শক্তিশালী হবে। আর ডলার শক্তিশালী হলেই বিশ্ববাজারে সোনা দামের ওপর চাপ পড়ে। কারণ বিনিয়োগকারীরা তখন Safe Haven থেকে সরে যায় অন্য অ্যাসেটের দিকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে Gold Rate স্বাভাবিকভাবেই নিচে নামে।
সোনার দাম কমতে পারে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, কী কারণে চাপে পড়তে পারে Gold Market?
তবে শুধু মার্কিন সুদনীতি নয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আরেক বড় ফ্যাক্টর কাজ করবে—চাহিদা কমে যাওয়া। উৎসবের মরসুম শেষে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান সহ দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে সোনার কেনাবেচা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এই মৌসুমে অনেকেই ইতিমধ্যেই সোনা কিনে ফেলেন। ফলে বছরের শুরুতেই চাহিদা হালকা হয়ে যায়। চাহিদা কমলে Gold Price Correction স্বাভাবিকভাবে বড় হয়।
উপরন্তু, বিশ্ববাজারে সোনা সরবরাহ (Gold Supply) বেড়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা। কয়েকটি বড় মাইনিং কোম্পানি ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে উৎপাদন বাড়ানো হবে। সেই অতিরিক্ত সাপ্লাই যদি নতুন বছরে বাজারে আসে, তাহলে দাম কমার সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে।



এদিকে দেশে সোনা আমদানি নিয়েও চাপ বাড়ছে। রুপির বিপরীতে ডলারের দাম টানা বাড়তে থাকায় ভারতের আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়েছে। সরকার যদি নতুন বছরে আমদানি শুল্কে পরিবর্তন আনে, তাহলে Gold Rate-এ অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এখন যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে দাম নিচের দিকেই যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে Gold Price-এ যে স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, তা বেশিদিন থাকবে না। জানুয়ারি ২০২৬ Gold Market-এর জন্য বড় পরীক্ষার মাস। এমনকী, কয়েকজন বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন, দাম পতন পাঁচ থেকে আট শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
যদিও সোনার দাম ঠিক কোথায় গিয়ে থামবে, তা ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। তবে যে সব বিনিয়োগকারী বছরের শুরুতে সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য জানুয়ারি ২০২৬ বেশ লাভজনক সময় হতে পারে। অনেকেই বলছেন, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি দেখে ধীরে ধীরে ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজি বদলানোর সময় এসেছে।
অনেকে Gold Rate Crash বা সোনার দাম কমা নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও, কিছু মানুষ এটিকে সুযোগ হিসেবেও দেখছেন। দীর্ঘমেয়াদে সোনা সবসময়ই লাভজনক অ্যাসেট। দাম কমলে সেই বিনিয়োগ আরও সুবিধাজনক হয়ে ওঠে। তাই বাজার পড়তে বসলে অনেকেই ‘Buy on Dip’ নীতি গ্রহণ করেন।
নতুন বছরে সোনা বাজারে যে বড়সড় ওঠানামা আসছে, তা এখন নিশ্চিত। ২০২৬ সালের জানুয়ারি তাই সোনা বাজারের জন্য এক ঐতিহাসিক সময় হতে পারে। অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে বলছেন—যে গতিতে বৈশ্বিক বাজার বদলাচ্ছে, তাতে সোনার দাম কমা সময়ের অপেক্ষামাত্র।








