নজরবন্দি ব্যুরোঃ আসরে নামলেন গডকড়ী, জিতলে বাংলার সড়কে লক্ষ কোটি বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি। বাংলার মসনদ দখলে বিজেপি শিবিরের ভরসা যে সেই কেন্দ্রীয় নেতারা তা আরও একবার প্রমান হয়ে গেল। রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে বিভিন্ন হেভিওয়েট নেতা মন্ত্রীদের বার বার দেখা যাচ্ছে। অমিত শাহ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার রাজ্যে এসেছেন। পিছিয়ে নেই প্রধানমন্ত্রীও।
আরও পড়ুনঃ দেশে ফের বাড়ছে করোনা! মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী।
ইতিমধ্যেই তিনটি সভা করা হয়ে গেছে তাঁর। আর এবার আসরে নামলেন আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ভোট জয়ের লক্ষ্যে যিনি আজ দিলেন লক্ষ কোটির প্রতিশ্রুতি। তিনি দেশের সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলেই সড়ক উন্নয়নে ১ লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্পে ছাড়পত্র দেবার প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের জন্য কেন্দ্রের ওই পরিকল্পনা তৈরিই রয়েছে। তবে এই আমলে শুরু করতে গেলে ‘রাজনৈতিক সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে’। তাই কেন্দ্র ও রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ এলেই ওই কাজে হাত দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত আগামী অর্থবর্ষে (২০২১-২২) পশ্চিমবঙ্গে ৬৭৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের ঘোষণা সংসদে দাঁড়িয়ে করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
সংসদের বাজেট বক্তৃতায় ওই খাতে ২৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আজ এক ধাপ এগিয়ে গডকড়ী দাবি করেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সড়ক খাতে ১ লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তুত রয়েছে। সময়ে জমি অধিগ্রহণ করা গেলে এবং পরিবেশ ও বন দফতরের ছাড়পত্র হাতে এলে এত দিনে ওই কাজ শুরু করে দেওয়া যেত।’ বাধা যে রাজ্য সরকার তা সরাসরি না বললেও হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাই থমকে থাকা প্রকল্পের রূপায়ণে কেন্দ্র ও রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিনের সরকারের তত্ত্বে হাওয়া দিয়ে গডকড়ী বলেন, ‘দু’জায়গায় একই দলের সরকার হলে আমরা পশ্চিমবঙ্গের চেহারা বদলে দেব।” নাগপুরের এই বিজেপি নেতার দাবি, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গোটা দেশে যে উন্নয়ন যজ্ঞ চালাচ্ছে, বাংলার মানুষ তাতে শামিল হতে চান।
আসরে নামলেন গডকড়ী, জিতলে বাংলার সড়কে লক্ষ কোটি বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি। যার জবাবে তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, ‘বেকারত্ব, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার মতো বিষয়গুলিতে পিছিয়ে রয়েছে বিজেপি শাসিত গুজরাত, ত্রিপুরা কিংবা মধ্যপ্রদেশ। আগে নিজেদের শাসনে থাকা রাজ্যগুলিতে মনোযোগ দিক বিজেপি। তার পরে পশ্চিমবঙ্গের কথা ভাবুক।’



