দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ হারার পর ভারতীয় ক্রিকেটে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গম্ভীর ইস্যুতে টানা সমালোচনার মুখে পড়েছেন টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ গৌতম গম্ভীর। সমর্থক থেকে প্রাক্তন ক্রিকেটার—একাধিক মহল থেকে দাবি উঠেছে, তাঁকে কোচের পদ থেকে সরানো উচিত।
সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতের ধারাবাহিক সাফল্য থাকলেও লাল বলের ক্রিকেটে গম্ভীর জমানায় পারফরম্যান্স নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ঠিক এই সময়েই গম্ভীরকে নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল BCCI।
BCCI-র একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র NDTV-কে জানায়, বোর্ড এখনই গম্ভীরকে সরানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না। বরং তাঁর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার উপরই ভরসা রাখছে তারা। বোর্ড কর্তাদের দাবি, ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত গম্ভীরের চুক্তি বহাল থাকবে এবং সেই অনুযায়ী তাঁকে সময় দেওয়া হবে।
হেড কোচ হিসেবে গম্ভীরের মেয়াদ কতদিন? জানিয়ে দিল বোর্ড
সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, গম্ভীর যখন টেস্ট দলের দায়িত্ব পান, তখনই বদলের হাওয়া বইছিল। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, চেতেশ্বর পূজারা—বহু সিনিয়র ক্রিকেটার অবসরে চলে যাওয়ায় টেস্ট টিম মূলত নবীনদের নিয়ে গড়ে তুলতে হচ্ছে। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সময় লাগবে, এবং সেই সময়টুকুই পাচ্ছেন গম্ভীর।
তবে সমালোচনা থামছে না। অভিযোগ উঠছে যে, গম্ভীর রঞ্জি ট্রফির পারফরম্যান্সকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না, বরং IPL-এ পারফর্ম করা ক্রিকেটারদের টেস্ট দলে সুযোগ দিচ্ছেন। ঘনঘন প্রথম একাদশে পরিবর্তন, ঘরের মাঠে দুই টেস্ট সিরিজ হার এবং WTC ফাইনালে পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়ায় গম্ভীরের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
BCCI জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর নির্বাচক কমিটি ও টিম ম্যানেজমেন্টের বৈঠক হবে। সেখানে গম্ভীরের কাছে পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হবে—বিশেষ করে টেস্ট স্কোয়াডের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে। বোর্ডের মতে, গম্ভীরের বর্তমান লক্ষ্য তরুণদের আন্তর্জাতিক লেভেলে প্রস্তুত করা, যা সময়সাপেক্ষ হলেও দীর্ঘমেয়াদে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বোর্ড সূত্রের আরও বক্তব্য, অতীতের মতো এখন আর সিনিয়র দলকে নির্ভরযোগ্য ব্যাটিং-বোলিং স্তম্ভ হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নতুনদের অভিজ্ঞতা দেওয়ার পাশাপাশি টেস্ট ব্যাটিং অর্ডার ও স্পিন বিভাগে ধারাবাহিকতা গড়ে তুলতে গম্ভীরকে আরও সময় প্রয়োজন। ভারতীয় ক্রিকেটের রূপান্তরের এই পর্যায়ে তাঁকে হঠাৎ সরিয়ে দিলে তা দলের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে বলেই মনে করছে বোর্ড।
এখন দেখার বিষয়, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পরবর্তী পর্যালোচনা বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়, এবং গম্ভীর ইস্যুতে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়। আপাতত নিশ্চিত, কোচ হিসেবে তাঁর মেয়াদ আরও কয়েক বছর বহাল থাকবে।







