ফ্রান্স বনাম প্যারাগুয়ে: এমবাপের একমাত্র গোলে কঠিন লড়াই জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের শক্ত রক্ষণ ভেঙে পেনাল্টি থেকে গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে। ১-০ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল ফ্রান্স, এবার প্রতিপক্ষ মরক্কো।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অবশেষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল ফ্রান্স (France)। শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ে (Paraguay)-এর দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলেও শেষ পর্যন্ত অধিনায়কোচিত দায়িত্ব পালন করলেন কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe)। তাঁর পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল দিদিয়ের দেশঁ (Didier Deschamps)-এর দল। এবার তাদের সামনে আরও বড় পরীক্ষা, প্রতিপক্ষ মরক্কো (Morocco)।

গোলের জন্য ৭০ মিনিটের অপেক্ষা, প্যারাগুয়ের রক্ষণে আটকে ফ্রান্স

ফিলাডেলফিয়া (Philadelphia)-তে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচটি ছিল প্রবল গরমের মধ্যে। প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দুই দলকেই শারীরিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়। চোটের কারণে মাঝমাঠে অরেলিয়েন চুয়ামেনি (Aurelien Tchouameni)-কে না পাওয়ায় কিছুটা ভারসাম্য হারিয়েছিল ফ্রান্স।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ফরাসিদের হাতে। তবে প্যারাগুয়ের পরিকল্পনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিজেদের অর্ধেই অধিকাংশ সময় খেলেও শক্ত রক্ষণ এবং শারীরিক ফুটবলের মাধ্যমে তারা ফ্রান্সের আক্রমণকে বারবার ব্যর্থ করে দেয়।

উত্তপ্ত ম্যাচে বারবার থামল খেলা

প্রথমার্ধে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও কোনও দলই সফল হতে পারেনি। মাঝেমধ্যেই কঠোর ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি এবং ফাউলের কারণে ম্যাচের উত্তেজনা চরমে ওঠে। দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে কয়েকবার বচসাও দেখা যায়।

প্যারাগুয়ের এই রক্ষণাত্মক কৌশল আগের ম্যাচেও সফল হয়েছিল। জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছিল তারা। ফ্রান্সের বিরুদ্ধেও একই ছকেই খেলতে নেমেছিল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

বদলি নামিয়েই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দেশঁ

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্র প্রায় একই ছিল। ফ্রান্সের পায়ে বল থাকলেও গোলের রাস্তা খুলছিল না। ম্যাচ শেষে ফরাসিদের বল দখলের হার ছিল প্রায় ৭৬ শতাংশ।

৬১ মিনিটে ব্র্যাডলি বার্কোলা (Bradley Barcola)-র পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় ডিজাইরে দুয়ে (Desire Doue)-কে। তাঁর গতি ও ড্রিবলিং ম্যাচের ছন্দ বদলে দেয়। বক্সের ভিতরে ঢোকার সময় তাঁকে ফাউল করেন প্যারাগুয়ের এক ডিফেন্ডার। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন।

পেনাল্টি থেকে গোল, সোনালি বুটের দৌড়েও শীর্ষে এমবাপে

স্পট-কিক নিতে এসে কোনও ভুল করেননি কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe)। ঠান্ডা মাথায় গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন তিনি।

এই গোলের ফলে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়াল সাত। একই সংখ্যক গোল থাকলেও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসি (Lionel Messi)-র সঙ্গে শীর্ষস্থানে রয়েছেন ফরাসি তারকা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাঁর মোট গোলসংখ্যাও পৌঁছে গেল ১৯-এ।

শেষদিকে গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে ব্যবধান বাড়েনি

গোল হজমের পর আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও প্যারাগুয়ে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে ফ্রান্স আরও কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেলেও গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল (Orlando Gill)-এর দুর্দান্ত সেভে ব্যবধান আর বাড়েনি।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায় ফ্রান্স।

এবার মরক্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠিন পরীক্ষা

কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের সামনে অপেক্ষা করছে মরক্কো (Morocco)। আশরাফ হাকিমি (Achraf Hakimi)-দের দল এই বিশ্বকাপে অন্যতম সেরা রক্ষণ প্রদর্শন করেছে। প্যারাগুয়ের মতো অতিরিক্ত শারীরিক ফুটবল না খেললেও সংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে মরক্কো অত্যন্ত বিপজ্জনক।

তাই এমবাপে ও তাঁর সতীর্থদের সামনে এবার আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। তবে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা দেখিয়ে ফ্রান্স স্পষ্ট করে দিয়েছে, শিরোপার দৌড়ে তারা এখনও অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন