নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২০১৭ সালে মালদায় যে বন্যা হয়েছিল, সেই দুর্যোগে সরকারি ত্রাণ বণ্টন নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। হাইকোর্টে স্বীকার করল রাজ্য সরকার। ত্রান বণ্টন নিয়ে চরম অস্বস্তির মুখে পড়ল রাজ্য। আজ কলকাতা হাইকোর্টে মালদার বন্যায় ত্রান বন্টন নিয়ে দুর্নীতি বিষয়ক মামলাটি ওঠে। হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ে রাজ্য সরকার স্বীকার করে, বন্যার ত্রাণের টাকা নয়ছয়ে সরাসরি জড়িত পঞ্চায়েত সমিতির প্রধান।
আর পড়ুনঃ আচমকাই হড়পা বান বাংলায়, জলে ডুবল গোটা গ্রাম, ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা।
যদিও রাজ্যের স্বীকারোক্তিতেই থেমে যায়নি সব কিছু। হাইকোর্টে দুর্ণীতির কথা স্বীকার করতেই রাজ্যকে বিচারপতির প্রশ্ন বানের মুখে পড়তে হয়। চরম ভর্ৎসনা করে বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘তাহলে কি এত বছর সরকার ঘুমাচ্ছিল?’ এরপরেই বিচারপতি রাজ্য সরকারকে দ্রুত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, মালদহে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘনিয়ে আসে ২০১৭ সালে। সেই বন্যার ত্রাণ বণ্টন নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, এই মর্মে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। অভিযোগ, কই অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় একাধিক ব্যাক্তির টাকা। আদালতের নির্দেশে এফআইআর হলেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। কেন গ্রেফতার করা হয়নি? আইওয়াশ হচ্ছে?
বিচারপতির এই প্রশ্নের উত্তরে, অ্যাটর্নি জেনারেল গোপাল মুখোপাধ্যায় আদালত কে বলেন, ‘মামলার অপরাধী পালিয়েছে। তাই তাঁকে গ্রেফতার করা যায়নি।’ পাশাপাশি রাজ্যসরকারের পক্ষ থেকে মহামান্য আদালতের কাছে ৭ দিন সময় চাওয়া হয় প্রশাসন কাজ করছে তা প্রমাণ করার জন্যে।
বন্যার ত্রাণ বণ্টন নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, হাইকোর্টে স্বীকার করল রাজ্য!

প্রসঙ্গত, মালদহে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। তাঁদের ক্ষতিপূরণের জন্যে রাজ্য সরকার ত্রাণ ঘোষণা করে। যাঁদের বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, তাঁদের জন্যে ৭০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন ১৪ হাজার মানুষ। কিন্তু সেই ক্ষতিপূরণ প্রাপকদের মধ্যেই একজন দুর্নীতি ইসুতে মামলা করেছিলেন হাইকোর্টে। যার পরিপ্রেক্ষিতেই দায় স্বীকার করেছে রাজ্য।



