10th ফেব্রুয়ারি, 2026 (মঙ্গলবার) - 3:32 অপরাহ্ন
28 C
Kolkata

‘ফল ঢুকতে পারে না, জঙ্গি ঢোকে কীভাবে?’ পাক নীতির তীব্র সমালোচনায় ফজলুর রেহমান

সীমান্তে কড়াকড়ি থাকলেও জঙ্গি অনুপ্রবেশ থামছে না—পাকিস্তানের আফগান নীতিকে ‘৭৮ বছরের ব্যর্থতা’ বলে কটাক্ষ ফজলুর রেহমানের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পাকিস্তানের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা কৌশল নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-এফ (জেইউআই-এফ) প্রধান এবং পাকিস্তান সংসদ সদস্য মাওলানা ফজলুর রেহমান। রাওয়ালপিন্ডির এক জনসভায় তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসবাদীরা অনায়াসে পাকিস্তানে ঢুকে পড়ছে—যা সরকারের নীতিগত ব্যর্থতারই প্রমাণ।

ফজলুর রেহমানের কথায়, “আফগানিস্তানের একটি ডালিমও পাকিস্তানে ঢুকতে পারে না, একটি তরমুজও নয়। অথচ সন্ত্রাসবাদীরা ঠিকই চলে আসছে।” তাঁর প্রশ্ন, যদি সীমান্তে এত কড়া নজরদারি থাকে যে সাধারণ বাণিজ্যও বন্ধ হয়ে যায়, তবে জঙ্গিরা কীভাবে প্রবেশ করছে?

তিনি বলেন, আফগানিস্তানে জহির শাহের আমল থেকে শুরু করে বর্তমান ‘ইমারাতে ইসলামিয়া’—কোনও সরকারের সঙ্গেই পাকিস্তানের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। তাঁর মতে, গত ৭৮ বছরে পাকিস্তানের আফগান নীতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। “কমিউনিস্ট, মুজাহিদিন, তালিবান—সবাই এসেছে। যারা একসময় প্রো-পাকিস্তানি বলে পরিচিত ছিল, তারাও এখন পাকিস্তানের পাশে নেই,” মন্তব্য তাঁর।

পাকিস্তানের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াকেও তীব্রভাবে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দেশের কোনও নির্দিষ্ট জাতীয় আফগান নীতি নেই। একেক সময় একেক জেনারেল নিজের মতো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন—কখনও আলোচনা, কখনও যুদ্ধের পথে হাঁটা হয়। এই অস্থিরতার ফলেই চার দশক ধরে সীমান্তে রক্ত ঝরছে বলে দাবি করেন তিনি।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রেহমান বলেন, “ভারতের অর্থনীতি ভালো, চিনের ভালো, ইরানের ভালো—এমনকি আফগানিস্তানের অর্থনীতিও আমাদের চেয়ে ভালো।” যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের অর্থনীতি পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থাকা শাসকদের জন্য লজ্জার বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ভুল আফগান নীতির প্রভাব এখন শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই। খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান পেরিয়ে সেই অশান্তি ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতেও পৌঁছে গেছে। এমনকি মসজিদের ভেতরেও মানুষ নিরাপদ নয়।

ইসলামাবাদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ

এই মন্তব্যের মধ্যেই ইসলামাবাদের একটি মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৭০ জনেরও বেশি, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সাম্প্রতিক সময়ে এটি পাকিস্তানের অন্যতম বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, নিরাপত্তারক্ষীরা হামলাকারীকে চ্যালেঞ্জ করলে সে প্রথমে গুলি চালায়, পরে মুসল্লিদের শেষ সারিতে দাঁড়িয়ে নিজেকে উড়িয়ে দেয়। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরীর দাবি, হামলাকারী পাক নাগরিক এবং সে আফগানিস্তানে গিয়েছিল। তবে তালিবানের তরফে এই অভিযোগ ‘অযৌক্তিক’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে খারিজ করা হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত

Discover more from Najarbandi | Get Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading