নজরবন্দি ব্যুরোঃ উত্তাল পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্ত। কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে কার্যত হার মানল মনোহর লাল খট্টরের পুলিশ-প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সীমানা পেরিয়ে পাঞ্জাব থেকে হরিয়ানায় ঢুকে পড়ল কৃষকরা। জল কামান, টিয়ার গ্যাস ছুঁড়েও রোখা গেল না তাঁদের। এবার তাঁদের গন্তব্য দিল্লি। উত্তাল পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্ত। কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ২৭ নভেম্বর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা ‘দিল্লি চলো’ অভিযানের ডাক দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ কতদূর এগোল অক্সফোর্ডের টিকা তৈরির কাজ? পর্যবেক্ষনে যাচ্ছেন মোদি।
যদিও করোনার ব্যাপক প্রকোপের জেরে দিল্লির সবক’টি বর্ডার সিল করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেজরিওয়াল সরকার। তাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিল্লি সরকারকে পালটা হুমকি দিয়ে রেখেছে কৃষক সংগঠনগুলি। তাঁদের বক্তব্য, যদি যন্তরমন্তর পর্যন্ত তাঁদের যেতে দেওয়া না হয়, তাহলে তাঁরা হরিয়ানা-দিল্লি হাইওয়েতে ধর্ণায় বসবেন। এরজন্য তাঁরা সঙ্গে অন্তত তিন মাসের রেশন, তাঁবু-সমেত অন্যান্য জিনিসও মজুদ করে নিয়ে আসছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে পাঞ্জাব থেকে হরিয়ানায় প্রবেশের চেষ্টা করেন কয়েক হাজার কৃষক। দুই রাজ্যে সীমানার কাছে একটি সংকীর্ণ সেতুতে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায় তাঁদের। সেতুতে থাকা ব্যারিকড তুলে নদীর জলে ফেলে দিয়ে এগোতে থাকেন কৃষকরা। পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। পালটা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকেন চাষিরা। পুলিশের অভিযোগ, তাদের হাতে লাঠি, তরোয়ালের মতো অস্ত্রও ছিল।
উত্তাল পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্ত। বিক্ষোভকারীদের রুখতে আগে থেকেই সেতুর মাঝ বরাবর একটি ট্রাক দাঁড় করানো ছিল। গায়ের জোরে সেটিকেও সেতুর এক পাশে ঠেলে দেন আন্দোলনকারীরা। তাদের রুখতে জলকামানও চালায় হরিয়ানা পুলিশ। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সংবাদসূত্র এএনআই-য়ের খবর অনুযায়ী, পুলিশি বাঁধা কাটিয়ে তারা ইতিমধ্যেই হরিয়ানায় ঢুকে পড়েছেন। হরিয়ানার কৃষকরাও করনা হ্রদের কাছে একত্রিত হয়েছেন। এবার তাঁদের গন্তব্য দিল্লি। এদিকে কৃষকদের উপর পুলিশের এই অত্যাচারকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং।



