সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ছবি আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে শান্তিনিকেতনের ‘অপা’-র বাড়ি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বাড়ির সামনে একটি ব্যানার টাঙানো রয়েছে, যেখানে লেখা: “এখানে কার্তিক ফেলবেন না, বাড়ির সবাই জেলে”। যদিও পরে জানা যায়, এই ব্যানারটি আসল নয়, এটি সম্পূর্ণ এডিট করা। তবুও ছবিটি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে হাসির রোল উঠেছে এবং মিম হিসেবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে।
ব্যানার ভাইরাল হওয়ার নেপথ্যে ‘অপা’-র বাড়ি
২০২২ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-এর দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। এই ঘটনার পরেই আলোচনায় আসে শান্তিনিকেতনের ফুলডাঙার বাগানবাড়ি, যা ‘অপা’-র বাড়ি নামে পরিচিত। রিপোর্ট অনুযায়ী, পার্থ এবং অর্পিতা ২০১২ সালে ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বাড়িটি কেনেন।


ঘটনার সময়ে এই বাড়ি এবং এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন বিতর্ক সংবাদমাধ্যমে বড়সড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে সময়ের সঙ্গে সেই বাড়ি নিয়ে চর্চা ধীরে ধীরে কমে আসে। এবার কার্তিক পুজোর আগে ভাইরাল হওয়া এই ব্যানার আবারও ‘অপা’-র বাড়িকে লাইমলাইটে নিয়ে এসেছে।
‘এডিট করা ব্যানার’ নিয়ে নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নেটিজেনদের মজার মন্তব্য আসতে শুরু করে। অনেকেই বুঝে গিয়েছিলেন যে ছবিটি আসল নয়। এডিট করা এই ছবিকে কেউ কেউ ‘সেরা মিম’ বলে মন্তব্য করেন।
একজন নেটিজেন বলেন, “আমার জীবনের দেখা সেরা মিম। হাহাহাহাহা।” অন্য একজন বলেন, “হাসতে হাসতে পেট ফেটে যাবে এবার।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “হাহাহা, এটা একেবারে দুর্দান্ত।”


মিম বা রসিকতা হলেও, ছবিটি একবার আবারও ‘অপা’-র বাড়ি এবং পার্থ-অর্পিতার সম্পর্কিত বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে।
জেলবন্দী পার্থ এবং অর্পিতার বর্তমান পরিস্থিতি
২০২২ সালের জুলাই মাসে এসএসসি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপ এবং সম্পত্তি নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারের পর থেকেই তাঁরা জেলে রয়েছেন। পার্থের জামিনের আবেদন এখনও ঝুলে রয়েছে, অন্যদিকে অর্পিতাও জেলে বন্দী।
সম্প্রতি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে বলে খবর পাওয়া যায়। অক্টোবর মাসের শেষের দিকে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে যান চিকিৎসকরা। কারা দফতর সূত্রে খবর, প্রতি মাসেই পার্থের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
‘অপা’-র বাড়ির ইতিহাস
পার্থ এবং অর্পিতা শান্তিনিকেতনে বাড়িটি কেনেন ২০১২ সালে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাড়িটি ০.১৭ একর জমির উপর তৈরি। বাড়ির অভ্যন্তরে বিলাসবহুল আসবাবপত্র এবং নানান সামগ্রী থাকার কথাও শোনা গিয়েছিল।
এসএসসি দুর্নীতি মামলার সময় বাড়িটি তল্লাশি চালানো হয় এবং সেই সময় বাড়িটির নাম উঠে আসে। এরপর থেকে এটি ‘অপা’-র বাড়ি নামে পরিচিতি পায়।
ভাইরাল ব্যানার এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে, একটি ছবি বা ব্যানার কত দ্রুত ভাইরাল হয়ে যেতে পারে, তার উদাহরণ এই ঘটনা। যদিও ছবিটি এডিট করা এবং বাস্তব নয়, তবে এটি দেখিয়ে দিয়েছে, কীভাবে মিমের মাধ্যমে বিতর্কিত বিষয়গুলিকে হাস্যরসে পরিণত করা যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের বিষয়গুলো একদিকে যেমন বিনোদনের খোরাক দেয়, অন্যদিকে বিতর্কিত ঘটনাগুলিকেও পুনরায় সামনে নিয়ে আসে।
শান্তিনিকেতনের ‘অপা’-র বাড়ি একসময় ছিল এসএসসি দুর্নীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আজ, একটি এডিট করা ব্যানারের মাধ্যমে তা আবারও সোশ্যাল মিডিয়ার লাইমলাইটে উঠে এসেছে। নেটিজেনদের হাসির রোল এবং মজার মন্তব্য এই ঘটনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।







