নজরবন্দি ব্যুরোঃ মেয়েরা অশালীন বলেই ধর্ষিতা হয়! দোষীরা এনকাউন্টারে মরবে জানাল বিজেপি। হাথরাস গণধর্ষণ কান্ডে সোচ্চার গোটা দেশ। হেভিওয়েট অভিনেতা-অভিনেত্রী সকলেই এহেন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধীরা। চাপের মুখে গতকাল গণধর্ষণ কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এই ঘটনায় আঁচ পড়েছে বাংলাতেও। বেশ চাপে পড়েছে বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেড। চাপ এমনই যে অসাংবিধানিক কথা বলতে শুরু করেছেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ জুলাইতে ২৫ কোটি ভারতীয় পাবেন ভ্যাকসিন! প্রথম ডোজ নেবেন হর্ষ বর্ধন।
ভারতের সংবিধান বলে হিংসার বদলা হিংসা নয়। দেশের জনগন এই সাংবিধানিক শপথ বাধ্যতামূলক ভাবে না নিলেও নিতে হয় জনপ্রতিনিধিদের। আর এবার সেই শপথ ভুলে গিয়ে হিংসার বদলা হিংসা দিয়েই মেটানোর পক্ষে সওয়াল করলেন বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা। সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “রাস্তায় দাঁড় করিয়ে গুলি করে মারা উচিত অভিযুক্তদের।” প্রশ্ন উঠছে, একজন সাংসদের মুখে কী এই কথা মানায়?
শুধু লকেট কেন, রাজ্য বিজেপি-র শীর্ষ নেতা সায়ন্তন বসু তো একধাপ এগিয়ে আগাম জানিয়ে দিয়েছেন কি করা হবে অপরাধীদে সাথে। বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর কথায়, ‘”উত্তরপ্রদেশে যে অপরাধীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, আমি সরকারের কেউ না হয়েও বলছি, তাদের এনকাউন্টার হবে। এই গ্যারান্টি আমি দিলাম।” প্রশ্ন উঠছে তিনি গ্যারান্টি দিচ্ছেন কিভাবে?
শাস্তি কি হবে তা স্থির করা আদালতের কাজ। সেক্ষেত্রে সরকারি দলের একজন রাজ্য সম্পাদক কিভাবে একথা বলেন? তাহলে কি গনধর্ষন কান্ডে ব্যাকফুটে যাওয়া বিজেপি সরকার নিজেদের জনদরদী প্রমান করার জন্যে শেষ পর্যন্ত এই পন্থাই নিতে চলেছে!
উল্লেখ যোগ্য ঘটনা হল, বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও একই সওয়াল করেছেন। সংবিধান মেনে শপথ নেওয়ার পরও সংবিধান মানতে নারাজ দিলীপ বা লকেট রা। সংবিধানে উল্লেখ করা রয়েছে, কোনও অপরাধে অভিযুক্তকে এনকাউন্টার করা ভারতের সংবিধান এবং বিচারব্যবস্থা অনুমোদন করে না। সেখানে সাংসদ থেকে নেতা সবাই এনকাউন্টারের কথা বলছেন! কেন?
মেয়েরা অশালীন বলেই ধর্ষিতা হয়! উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার বিজেপি বিধায়ক সুরেন্দ্র সিং বলেছেন মেয়েদের সুশিক্ষা দিলে তবেই ধর্ষন বন্ধ হবে! তিনি বলেন, “এই ধরনের ঘটনা সংস্কারের সঙ্গে রোখা যাবে, শাসন বা তলোয়ার দিয়ে আটকানো যাবে না। সব বাবা-মা’র ধর্ম হল, নিজের কমবয়স্ক এবং যুবতী মেয়েদের সংস্কারের আবহে বড় করে তোলা। সংস্কারের মধ্যে শালীন ব্যবহার শেখানো উচিত।” প্রসঙ্গত, বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যের পর ‘ধর্ষণ’-এর শিকার হয় ৪ বছরের এক শিশু!



