‘ভারতের আসল বস কি আম্বানি?’ Starlink নিয়ে ফের বিস্ফোরক প্রশ্ন এলন মাস্কের!

ভারতে Starlink-এর বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর অনুমোদন এখনও আটকে। কেন্দ্রের বক্তব্য নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলছে তিন সংস্থারই, এর মধ্যেই মুকেশ আম্বানিকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন এলন মাস্ক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতে Starlink-এর বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর অনুমতি এখনও আটকে থাকায় ফের সরব হলেন SpaceX-এর কর্ণধার এলন মাস্ক (Elon Musk)। বুধবার ‘কিছু oligarch’ ভারতের বাজারে Starlink-কে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করার পর বৃহস্পতিবার সরাসরি মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani) নাম তুলে প্রশ্ন করলেন, “Is Ambani the real boss of India?”

মাস্কের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই তাঁর অভিযোগ খারিজ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যোগাযোগ মন্ত্রকের বক্তব্য, ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার অনুমোদন প্রক্রিয়া ‘fair and non-discriminatory’। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, Starlink-সহ লাইসেন্স পাওয়া তিনটি সংস্থারই নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন এখনও চলছে।

Starlink-এর ভারতে প্রবেশের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আটকে রয়েছে। সংস্থাটি প্রয়োজনীয় GMPCS লাইসেন্স এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন পেলেও বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর আগে নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং স্পেকট্রাম সংক্রান্ত পরবর্তী ধাপ এখনও বাকি।

মাস্কের নতুন পোস্টে দাবি, Starlink ইতিমধ্যেই ১৬৫টিরও বেশি দেশে লাইসেন্স পেয়েছে এবং ভারতে সরকারের ‘প্রতিটি আইন ও প্রয়োজনীয়তা’ মেনে চলতে পাঁচ বছর ধরে কাজ করছে। তারপরেও কেন পরিষেবা চালুর অনুমতি মিলছে না, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি। এরপরই আম্বানিকে নিয়ে ওই মন্তব্য করেন SpaceX কর্ণধার।

এর আগে বুধবার X-এ মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, ভারতের কিছু ‘oligarch’ নাকি নিজেদের ‘monopolistic chokehold’ বজায় রাখতে Starlink-কে আটকে রাখছেন। যদিও সেই পোস্টে তিনি কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার নাম করেননি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ভারতে Starlink চালু হলে যেসব এলাকায় দ্রুত ইন্টারনেট বা মোবাইল পরিষেবা পৌঁছয়নি, সেখানকার মানুষ উপকৃত হতে পারেন।

মাস্কের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যোগাযোগ মন্ত্রক পাল্টা জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রত্যেক লাইসেন্সধারীকেই নির্দিষ্ট নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হয়। বর্তমানে তিনটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থারই নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলছে এবং তারা মোটামুটি একই regulatory stage-এ রয়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি।

এই তিন সংস্থা হল মাস্কের Starlink, রিলায়েন্স জিও-র স্যাটেলাইট পরিষেবা Jio Satcom এবং ভারতী গোষ্ঠী-সমর্থিত Eutelsat OneWeb। কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে। অর্থাৎ, শুধু Starlink-এর ক্ষেত্রেই অনুমোদন আটকে আছে—এমন দাবি কেন্দ্র মানছে না।

কেন্দ্রীয় যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি আরও জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Ministry of Home Affairs) নিরাপত্তা ছাড়পত্রের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বক্তব্য, এটি কোনও একটি সংস্থাকে লক্ষ্য করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়; নিরাপত্তা ছাড়পত্র মিললেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি পরবর্তী অনুমোদন পাবে।

অন্যদিকে, ভারতী এয়ারটেল চেয়ারম্যান সুনীল ভারতী মিত্তলও মাস্কের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের স্যাটেলাইট পরিষেবা উদ্যোগ Eutelsat OneWeb-ও ভারতে পরিষেবা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

Starlink-এর অনুমোদন নিয়ে বিতর্কের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল জাতীয় নিরাপত্তা। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অন্যতম উদ্বেগ হল বিদেশি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতীয় ব্যবহারকারীদের ডেটা ও পরিষেবার উপর দেশের নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর থাকবে। বিশেষ করে ভারতীয় গেটওয়ে এড়িয়ে যোগাযোগ চলাচলের সম্ভাবনা নিয়ে নিরাপত্তাজনিত প্রশ্ন রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই রিলায়েন্স জিও-ও ভারতে নিজস্ব স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে Starlink-এর ভারতে প্রবেশ ঘিরে নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ স্যাটেলাইট-ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে Starlink-এর অনুমোদন আটকে রাখার পিছনে আম্বানি বা রিলায়েন্সের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে—এমন কোনও সরকারি প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। মাস্কের বক্তব্য আপাতত তাঁর নিজস্ব অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন