লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির আবহে আচমকাই রাজ্যে পৌঁছে গেল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে সোমবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এই বৈঠকেই প্রথমবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলে দেখা যাবে রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি ও বর্তমান রাজ্যসভার প্রার্থী রাজীব কুমারকে, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা।
রবিবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী। পাশাপাশি দুই ডেপুটি কমিশনার মণীশ গর্গ ও পবনকুমার শর্মাও এসেছেন রাজ্যে। কমিশনের এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।


সোমবার সকাল থেকেই শুরু হবে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সকাল ১০টা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে বৈঠক করবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, কেন্দ্র ও রাজ্যের মোট আটটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলকে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রতিটি দলের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ১৫ মিনিট করে সময়।
এই বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে থাকবেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁদের সঙ্গেই থাকবেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার এবং বর্তমানে তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী রাজীব কুমার। রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার পর এই প্রথমবার কোনও সরকারি বৈঠকে তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ধর্না কর্মসূচি চলছে। রবিবার সেই ধর্না তৃতীয় দিনে পৌঁছেছে। ওই ধর্নামঞ্চেও উপস্থিত ছিলেন রাজীব কুমার, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।


এদিকে নির্বাচন কমিশনের বৈঠককে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতাও তুঙ্গে। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্র ও রাজ্যের মোট ২৪টি সংস্থার প্রতিনিধি, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি।
এই বৈঠকে ডাকা হয়েছে আইজি, ডিআইজি, বিভিন্ন পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার, জেলার পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকদেরও। মূলত নির্বাচন সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেই এই বৈঠক।
এরই মধ্যে রবিবার রাতে একটি ছোটখাটো রাজনৈতিক উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কনভয় ভিআইপি রোড দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে বিক্ষোভ দেখান সিপিএমের নেতা-কর্মীরা। ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তুলেও প্রতিবাদ জানানো হয়।
অন্যদিকে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটার রয়েছে। তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় আট লক্ষের মতো আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি আবেদনগুলি দ্রুত খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।









