নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের নড়েচড়ে বসল ইডি। টানা প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর শুক্রবার গভীর রাতে, অর্থাৎ রাত দেড়টা নাগাদ মন্ত্রী সুজিত বসুর অফিস থেকে বেরিয়ে যায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর আধিকারিকরা। এই অভিযানকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সল্টলেক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে।
সূত্রের খবর, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সুজিত বসু ও তাঁর পুত্রের রেস্তোরাঁয় বিনিয়োগের উৎস নিয়েই মূলত তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। ওই সময়ে রেস্তোরাঁয় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হলেও তার উৎস স্পষ্ট নয় বলে দাবি তদন্তকারীদের। তাই, অর্থ পাচার (money laundering) ও বেআইনি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথি খুঁজতেই ছিল এই হানা।


শুক্রবার সকালে শুরু হওয়া তল্লাশি অভিযান চলে প্রায় টানা ২০ ঘণ্টা। রাত দেড়টা নাগাদ ইডির দল অফিস থেকে বেরিয়ে যায়। একইসঙ্গে, সুজিত বসুর ছেলের বাইপাস সংলগ্ন রেস্তোরাঁয় ও তাঁর চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্টের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে বলে ইডি সূত্রে খবর।
এছাড়া, দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান নিতাই দত্তের বাড়ি ও গোডাউনে প্রায় সারাদিন ধরে তল্লাশি চালায় ইডি। অভিযোগ, পুর নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির সূত্র এখানেও জড়িত থাকতে পারে।
ইডি সূত্রের দাবি, বাজেয়াপ্ত নথিগুলির মধ্যে পুর নিয়োগের আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এখন সেইসব নথি খতিয়ে দেখা হবে। ইডি অফিসারদের মূল লক্ষ্য — সুজিত বসু বা তাঁর ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ কোনও বেআইনি উৎস থেকে এসেছে কি না, তা নির্ধারণ করা।


এর আগে, ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারিও একই মামলায় ইডি তল্লাশি চালিয়েছিল লেকটাউনে সুজিত বসুর বাড়ি ও অফিসে। তখনও প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়ে তাঁর মোবাইল ফোন ও বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
এই প্রথম নয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ দমদম পুরসভার উপ-পুরপ্রধান নিতাই দত্তের বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। তখন নিয়োগ দুর্নীতি মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছিল, যার সূত্র ধরেই বর্তমানে তদন্ত আরও গভীরে গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, স্কুল নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে সিবিআই প্রথম পুর নিয়োগ দুর্নীতির তথ্য পায়। এরপরেই ইডি যুক্ত হয় অর্থনৈতিক দিকের তদন্তে। সিবিআই ইতিমধ্যেই এই মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে। তাতে উল্লেখ রয়েছে, অয়ন শীলের মাধ্যমে কলকাতা-সহ ১৬টি পুরসভায় বেআইনি নিয়োগ-বাণিজ্য চালানো হয়েছিল।
বর্তমানে ইডি যে তথ্য ও নথি উদ্ধার করেছে, সেগুলি বিশ্লেষণ করে দেখা হবে। প্রয়োজনে শিগগিরই সুজিত বসু ও নিতাই দত্তকে আবারও তলব করা হতে পারে বলে সূত্রের দাবি।
ইডির এক আধিকারিকের ভাষায়, “পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার পেছনে অর্থের জটিল লেনদেন রয়েছে। কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তা খুব তাড়াতাড়ি স্পষ্ট হবে।”
এই দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তদন্ত এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, এবং রাজ্যের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



