ভোট যত এগোচ্ছে, ততই কঠোর হচ্ছে নজরদারি। এবার রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তা থেকে থানার স্তর পর্যন্ত একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ জারি করল Election Commission of India। স্পষ্ট বার্তা—আইনশৃঙ্খলায় কোনও গাফিলতি চলবে না, আর যাঁদের বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের ১০ দিনের মধ্যেই গ্রেফতার করতে হবে।
কমিশন পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে—ভোটের সময় সমস্ত সরকারি কর্মচারী কমিশনের অধীনেই কাজ করবেন। ফলে দায়িত্বে অবহেলা করলে সরাসরি তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারবে কমিশন।


📌পুরনো মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ
আগের নির্বাচনের সময় হওয়া অপরাধমূলক মামলাগুলি দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
এসডিপিও-দের কড়া নির্দেশ
- সব জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা দ্রুত কার্যকর করতে হবে
- পলাতক ও ঘোষিত অপরাধীদের তালিকা তৈরি বাধ্যতামূলক
- গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযান চালাতে হবে
- প্রয়োজনে লুকআউট সার্কুলার জারি করতে হবে
- পাশের মহকুমা ও জেলার সঙ্গে নিয়মিত তথ্য আদানপ্রদান করতে হবে
ওসি/এসএইচও-দের দায়িত্ব
প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় অশান্তিপ্রবণ অঞ্চল চিহ্নিত করতে হবে।
আগের নির্বাচনে জড়িত দুষ্কৃতীদের তালিকা তৈরি করে নজরদারি বাড়াতে হবে।
থানাগুলির জন্য ১৬ দফা নির্দেশ
কমিশনের তরফে থানাগুলিকে বিস্তারিত গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে—


- ১০ দিনের বেশি কোনও পরোয়ানা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না
- নাকা পয়েন্ট ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখতে হবে
- গাড়ি চেকিং ও সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করতে হবে
- হোটেল, লজ, ধর্মশালায় নিয়মিত তল্লাশি চালাতে হবে
- প্রার্থী ও নির্বাচনী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
- অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ টহল দিতে হবে
কমিশনের কড়া বার্তা
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে—এই নির্দেশ শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। কোনও আধিকারিক দায়িত্বে গাফিলতি করলে তা গুরুতরভাবে দেখা হবে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কমিশন যে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছে, তা পরিষ্কার।









