কলকাতা প্রিমিয়ার লিগে বড় ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জন্য। ব্যারাকপুর স্টেডিয়ামে পাঠচক্র স্পোর্টিং ক্লাবের কাছে ০-১ ব্যবধানে হেরে লাল-হলুদের পারফরম্যান্সে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এই ম্যাচে পাঠচক্রের হয়ে ডেভিড মতলা ৮৭ মিনিটে গোল করেন। আর সেই গোলটাই শেষ পর্যন্ত লাল-হলুদের পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


রক্ষণভাগের ভুলে হার, পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট
ম্যাচজুড়ে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়ার মারাত্মক অভাব দেখা গিয়েছে। রক্ষণভাগ বারবার ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সুযোগই কাজে লাগায় পাঠচক্র। ৮৭ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগের ভুল বোঝাবুঝিতে বল পেয়ে যান ডেভিড। গোলরক্ষক আদিত্য পাত্র এগিয়ে এলেও গোল ঠেকাতে পারেননি। এমন ভুল একটা বড় ক্লাবের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন।
জঘন্য ফুটবল, গোলের জন্য কেউই প্রস্তুত নয়
ম্যাচের পুরো সময়টাই ইস্টবেঙ্গলের খেলা ছিল এলোমেলো। আক্রমণে ধার ছিল না, মাঝমাঠে ছিল না ছন্দ, আর রক্ষণ ছিল অনিশ্চিত। সবচেয়ে বড় কথা, দলে গোল করার মতো ফুটবলার কেউ নেই। শেষ মুহূর্তে একবার সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল ঠিকই। কিন্তু পাঠচক্রের গোলকিপার অর্ণব দাস দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন।
অপ্রতিরোধ্য পাঠচক্র, কলকাতা লিগে দুরন্ত জয়রথ
পাঠচক্র স্পোর্টিং ক্লাব এখন পর্যন্ত কলকাতা লিগে চারটি ম্যাচে চার জয় পেয়েছে। তারা একটিও গোল খায়নি—যা রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং গোলকিপার অর্ণবের অসাধারণ ফর্মের সাক্ষ্য। অর্ণব ছাড়াও দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের বোঝাপড়া এবং গেম প্ল্যান ইস্টবেঙ্গলের মতো বড় দলের বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে নিতে যথেষ্ট ছিল।


ইস্টবেঙ্গলের অস্থিরতা, বড় ম্যাচের আগে চিন্তা বেড়েছে
এই হারের ফলে বিনো জর্জের কোচিংয়ে প্রশ্ন উঠছে। কাস্টমসের বিরুদ্ধে ড্রয়ের পর পাঠচক্রের কাছে হারের ফলে সমর্থকদের ক্ষোভ বাড়ছে। কলকাতা লিগের মতো প্ল্যাটফর্মে এত দুর্বল পারফরম্যান্স দলের মনোবল ভেঙে দিতে পারে। বড় ম্যাচের আগে এই ধরনের হার দলের প্রস্তুতিকে বড় রকমের ধাক্কা দিতে পারে।
ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জন্য এই হার শুধু একটি ম্যাচ নয়, এটি একধরনের সতর্কবার্তা। খেলার ধরণ, স্কোয়াড গঠন এবং পরিকল্পনায় পরিবর্তন না আনলে মরসুমের শুরুতেই দলের বিপর্যয় ঘনিয়ে আসতে পারে। পাঠচক্রের মতো ক্লাব যদি ছকভাঙা পারফরম্যান্স করতে পারে, তাহলে বড় দলের থেকে এর থেকে ভালো কিছু আশা করাটাই স্বাভাবিক।







